“আমরা তোমাদের যোগ্য নই”-সুপ্রিম রায় নিয়ে পথকুকুরদের বিষয়ে কী লিখলেন মিমি?

দিল্লি এবং এনসিআর থেকে রাস্তার কুকুরদের সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বলিউডের পাশাপাশি টলিউডের তারকারাও। অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মিমি চক্রবর্তী তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তাঁকে রাস্তার কুকুরদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে। শ্যুটিং থেকে শুরু করে ছুটি কাটানো—সব জায়গাতেই মিমি এই অবলা প্রাণীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আমার মা আমায় বলেছিল, সম্ভবত আমার আট বছর বয়স থেকে আমার স্কুলবাস পর্যন্ত রাস্তার কুকুরেরা আমাকে সঙ্গ দিত। আর আমার দায়িত্ব ছিল তাদের এক জার বিস্কুট খাওয়ানো। এটা আমায় শেখানো হয়েছিল, কারণ আমি চারপাশে কী দেখছি আর তার থেকে কী শিখছি।”

মিমি তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার স্কুলও আমায় শিখিয়েছিল যে কুকুরেরা আমাদের প্রিয় বন্ধু। কালু, লালু-সহ অনেকেই আমার জন্য অপেক্ষা করত এবং বাড়ি পর্যন্ত যেত। আমাদের কলোনির প্রায় সবাই তাদের খাওয়াতো।” তিনি আরও বলেন যে, তাঁদের এক প্রতিবেশী তাঁর নিজের বাড়িটিকে কুকুর ও বিড়ালের জন্য আশ্রয় এবং হাসপাতালে পরিণত করেছিলেন। কনকনে ঠান্ডার সময়ে তিনি তাদের আশ্রয় ও কম্বল দিতেন, যা আজও চলছে।

মিমি জানান, জলপাইগুড়িতে তাঁর মা কিছু পথকুকুরের নামকরণ করেছেন এবং নিয়মিত তাদের খাবার দেন। এর বিনিময়ে সেই কুকুরেরা তাঁর মা বাড়িতে না থাকলে বাড়ির পাহারা দেয়।

অভিনেত্রী জানান, এই মুহূর্তে দিল্লিতে তাঁর দিদি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। মিমি তাঁর পোস্টে লিখেছেন যে, এই ধরনের আইন কোনো কুকুরকে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। তিনি এটিকে ‘হত্যালীলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে অস্বাস্থ্যকর পুকুরে ধীরে ধীরে কুকুরগুলো মারা পড়বে। মিমির এই পোস্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উল্লেখ্য, মিমি নিজেও তিনটি পোষ্য কুকুরের মালিক, যার মধ্যে একটি দেশি কুকুর।