হরিয়ানায় বাড়ছে গর্ভপাতের প্রবণতা, ‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগানের রাজ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ যে রাজ্য থেকে শুরু হয়েছিল, সেই হরিয়ানাতেই উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে কন্যাভ্রূণ হত্যার ঘটনা। অবৈধ গর্ভপাত এবং গর্ভপাতের কিট বিক্রির সংখ্যা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ১২০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, হরিয়ানায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের জন্মহার ক্রমাগত কমছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বাস্থ্য) সুধীর রাজপাল বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষত, যেসব মহিলার এক বা একাধিক কন্যা সন্তান রয়েছে এবং যারা ১২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অন্তঃসত্ত্বা, তাদের গর্ভপাতের উপরে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সুধীর রাজপাল জানিয়েছেন, দায়ের হওয়া ১২০টি মামলার মধ্যে ৩৯টি আদালতে বিচারাধীন এবং ৪৭টির তদন্ত চলছে। তিনি সব জেলার চিফ মেডিক্যাল অফিসারদের (CMO) পুলিশ ও আইনি সহায়তায় দ্রুত মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়াও, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে অবৈধ গর্ভপাত ও লিঙ্গ নির্ধারণের কাজে জড়িত চক্রকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। PNDT (pre-natal diagnostic techniques) সম্পর্কিত কোনো নোডাল অফিসারকে ডিরেক্টর জেনারেলের অনুমতি ছাড়া বদলি করা যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

হরিয়ানা সরকার অবৈধ লিঙ্গ নির্ধারণ ও গর্ভপাত রোধে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্সে স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে রাজ্যের ৩০০টি বেসরকারি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগানের রাজ্যে কন্যাভ্রূণ হত্যার এই চিত্র রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।