ব্যারিকেড ভেঙে চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ল ট্রাক, রক্তে ভাসল দেহ, মৃত্যু তিন, আহত একাধিক

শনিবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনটি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ খড়গপুরগামী একটি কাগজ বোঝাই লরি পাঁশকুড়া থানার অন্তর্গত সিদ্ধা বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়ে। লরিটির ধাক্কায় পরপর তিনটি দোকান মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে। দোকানে বসে থাকা এবং আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতারা ছিটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাজার এলাকায় প্রচুর ভিড় ছিল। এই ঘটনায় স্থানীয় সিদ্ধা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আনসার, শেখ দুলাল এবং শেখ মাইদুল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত ৬ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ক্রেন এনে লরিটি সরানো সম্ভব হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর লরির চালক পালিয়ে গেছে এবং তাকে খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি চলছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাতের বেলায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলি অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও তা যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সাময়িক সময়ের জন্য মৃতদেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখায়, যার ফলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ প্রশাসন বহন করবে।