১১ বছরের পড়ুয়ার কাণ্ডে হতবাক সবাই! স্কুলের জলের ট্যাঙ্কে কীটনাশক মিশিয়ে দিল ক্লাস মনিটর

সবে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, অথচ তার কাণ্ড দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত সবাই। মাত্র ১১ বছর বয়সের এক পড়ুয়া তার রাগের বশে যা ঘটাল, তাতে গোটা স্কুল মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিল। সামান্য এক ঘটনার জেরে সে স্কুলের জলের ট্যাঙ্কে বিষাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের শিমোগা জেলার একটি সরকারি স্কুলে।
জানা গেছে, ওই নাবালক ক্লাসের মনিটর। কিন্তু তার কথা ক্লাসের বাকি পড়ুয়ারা শুনছিল না। এই রাগে এবং হতাশাতেই সে এমন এক মারাত্মক কাণ্ড ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বাড়িতে আদা ক্ষেতে ব্যবহারের জন্য রাখা কীটনাশক নিয়ে এসে সে তা স্কুলের জলের ট্যাঙ্কে মিশিয়ে দেয়। যে জল স্কুলের সমস্ত পড়ুয়া এবং শিক্ষকেরা পান করতেন।
ঘটনাটি অবশ্য ভাগ্যক্রমে দুপুরের খাবারের বিরতির আগেই ধরা পড়ে। মিড ডে মিলের খাবার রান্নার সময় রাঁধুনিরা জল থেকে একটি তীব্র ও বিকট গন্ধ পান এবং জলের রঙও কিছুটা পরিবর্তিত দেখেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা শিক্ষকদের খবর দেন। শিক্ষকেরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই জল ব্যবহার বন্ধ করে দেন এবং কোনো পড়ুয়া যাতে ভুল করেও সেই জল পান না করে, তা নিশ্চিত করেন।
দুই সহপাঠী ওই নাবালককে কীটনাশক মেশাতে দেখেওছিল, কিন্তু সে তাদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কয়েকজন পড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসে। ওই নাবালককে তার এমন কাজের কারণ জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায়, কিছুদিন আগে ক্লাস টুর এক পড়ুয়া আরেক সহপাঠীর জলের বোতলে বাথরুমের ফিনাইল মিশিয়েছিল। সেই ঘটনা থেকেই সে এই বুদ্ধি পেয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্য কারও কোনো যোগ নেই। অভিযুক্ত নাবালককে জুভেনাইল আদালতে তোলা হবে।
এদিকে, ঘটনাটির সত্যতা সামনে আসার আগেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া আসল ঘটনা না জেনেই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলার সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন, যা নিয়ে পরবর্তীতে সমালোচনা হয়।