১২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব খারিজ?-পিএম-কিষান সম্মান নিধি প্রকল্প নিয়ে যা জানালো কেন্দ্র

রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার পিএম-কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বার্ষিক বরাদ্দ ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা করার সংসদীয় কমিটির সুপারিশ নাকচ করে দিয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

অভিষেক জানতে চেয়েছিলেন যে সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পিএম-কিষান প্রকল্পে কৃষকদের প্রাপ্য অর্থ বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে কিনা। জবাবে কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর লিখিতভাবে জানান, “পিএম-কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে না।”

২০১৯ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পে কৃষকরা বছরে তিনটি কিস্তিতে মোট ৬ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। তবে এই সুবিধা পেতে কৃষকদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কৃষকদের মোট ৩.৯০ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের এই প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে রাজ্যের কৃষক ও বর্গাদাররা বছরে দুই কিস্তিতে একর প্রতি ১০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। রাজ্যের শাসক দলের যুক্তি হলো, ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে কেন্দ্রের তুলনায় ৪ হাজার টাকা বেশি দেওয়া হয় এবং এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ৬ হাজার টাকা কৃষকদের জন্য যথেষ্ট নয়।

সংসদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একটি প্রশ্ন তোলেন, পিএম-কিষান প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে কিনা। উত্তরে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক জানায়, দেশের ১৪টি রাজ্যে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির জন্য পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়া, শিশুশ্রম নিয়ে অভিষেকের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুশ্রমিকের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা কেবল ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে শিশুশ্রম সংক্রান্ত মামলার পরিসংখ্যান দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কতজন শিশু শ্রমিক জড়িত, সেই প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেয়নি মন্ত্রক। তবে শ্রম মন্ত্রক জানায় যে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশের ৫৯টি জেলায় শিশুদের কারিগরি শিক্ষা দেওয়ার জন্য ১২২৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সাম্প্রতিকতম তথ্যের অভাব সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি করতে পারে, বিশেষত যখন মূল্যবৃদ্ধি বাড়ছে এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।