ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়েই, পাকিস্তানের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, আসলে মতলবটা কী?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাশিয়া থেকে ভারতের সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনা এবং ব্রিকস জোটে ভারতের সদস্যপদ। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের উপর বিশাল শুল্ক আরোপের পাশাপাশি ‘রাশিয়ান পেনাল্টি’ (Russian Penalty) বা রুশ নিষেধাজ্ঞা চাপানো হতে পারে। তার এই মন্তব্যের পর ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্পের মূল অসন্তোষের কারণ ভারতের লাগাতার রাশিয়া থেকে সস্তা দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে যখন পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তখন ভারতের এই পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অপ্রত্যাশিত ঠেকছে। ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন যে, রাশিয়ার তেল কিনছে এমন দেশগুলোকে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

ব্রিকস জোটে ভারতের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ:
বাণিজ্য শুল্কের পাশাপাশি ব্রিকস (BRICS) জোট নিয়েও ট্রাম্প তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ব্রিকসকে ‘আমেরিকা বিরোধী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন যে, ভারত এর সদস্য হওয়াটা ‘ডলারের উপর সরাসরি আক্রমণ’। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, “আমরা কাউকে ডলারের উপর আক্রমণ করতে দেব না।”

বাণিজ্য ঘাটতি এবং শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য:
ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বন্ধু, কিন্তু একই সাথে তিনি অভিযোগ করেছেন যে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পণ্য বিক্রি করে, কিন্তু উচ্চ শুল্কের কারণে আমেরিকা ভারতে তেমন কিছু বিক্রি করতে পারে না। তিনি দাবি করেছেন, “ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করে।” তবে, তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে ভারত এখন শুল্ক কমাতে চাইছে এবং এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই সপ্তাহের শেষের দিকে ভারতের উপর আরোপিত শুল্কের পরিমাণ (যা ২৫ শতাংশ হতে পারে বলে জল্পনা চলছে) এবং রুশ তেল কেনার জন্য জরিমানার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

ভারতের উপর দ্বিগুণ আঘাতের আশঙ্কা:
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে জানিয়েছেন যে ভারতের সঙ্গে তাদের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে হবে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ভারতের উপর ভারী শুল্ক আরোপ করতে চলেছেন, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শুল্কের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে অতিরিক্ত জরিমানাও করা হবে, যা ভারতের জন্য ‘দ্বিগুণ আঘাত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বছর রাশিয়া ভারতের শীর্ষ তেল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ।

পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের তেল চুক্তি এবং ইঙ্গিত:
ভারতের উপর চাপ বাড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডাম্প পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বড় তেল চুক্তির ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন যে আমেরিকা এবং পাকিস্তান একসঙ্গে ‘বিশাল তেলের রিজার্ভ’ তৈরি করবে। তিনি কৌতুক করে এও বলেছেন যে এমন একদিন আসবে যখন ভারতও পাকিস্তান থেকে তেল কিনবে। এই চুক্তিটি কোন আমেরিকান তেল কোম্পানি নেতৃত্ব দেবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন কৌশলগত চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ভারতের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর কী প্রভাব ফেলে, তা জানতে এই সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।