দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে রাষ্ট্রপতির পুজো, মা ভবতারিণীর হাত থেকে গড়িয়ে পড়ল ফুল, আপ্লুত দ্রৌপদী মুর্মু

পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী এইমসের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে পুজো দিতে এলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মেয়ের সাথে ভবতারিণী মায়ের মন্দিরে এসে পুজো দিয়ে তিনি আপ্লুত বলে জানা গেছে। এই সফরে মন্দিরে মায়ের হাত থেকে ফুল গড়িয়ে পড়াকে রাষ্ট্রপতি আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও এক বিশেষ আনন্দ দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই গোটা দক্ষিণেশ্বর এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। দুপুর বারোটার পর থেকে মন্দিরে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় ফেরি চলাচল। গঙ্গার বুকে ভারতীয় নৌসেনা লাগাতার টহল জারি রেখেছিল, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে প্রবেশ করেন। ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে তিনি নিষ্ঠা সহকারে মা ভবতারিণীর আরতি করেন। আরতি চলাকালীনই মায়ের হাত থেকে একটি পদ্মের পাপড়ি গড়িয়ে পড়ে। এই শুভ ঘটনায় রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আপ্লুত হন এবং সেটিকে মায়ের আশীর্বাদ হিসেবে চেয়ে নেন। তার মেয়ে ইতিশ্রী মুর্মুও ভক্তিভরে নিজের হাতের একটি আংটি মায়ের পায়ে ছুঁয়ে নেন। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির হাতে মানপত্র, বই এবং মা ভবতারিণী ও মন্দিরের ছবি তুলে দেওয়া হয়। প্রায় আধঘণ্টা মন্দিরে থাকার পর রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে রওনা দেন। উল্লেখযোগ্য, ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ১৯৫২ সালে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এই আগমন ঘিরে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ভক্তকূল উচ্ছ্বসিত।
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেন, “মাকে প্রদীপ, ধূপ জ্বালিয়ে আরতি করেছেন, মায়ের চরণে পদ্ম অর্পণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আরতির সময় মায়ের হাত থেকে পদ্মের পাপড়ি গড়িয়ে পড়ে। এটি খুবই শুভ। পুজো শেষে সেই ফুল চেয়ে নেন রাষ্ট্রপতি। দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রানি রাসমণি নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম পথ প্রদর্শক ছিলেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও সমাজ সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দু’জনের মধ্যে আমরা একটি মিল দেখতে পাই। আমরা রাষ্ট্রপতির মঙ্গল কামনা করি।”
এই ধর্মীয় সফর ঘিরে যেমন ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে, তেমনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো।