‘পাঁচ বছরে এসে একবার পাগলু ড্যান্স করেন,’ দেব ও দিলীপ ঘোষের বাকযুদ্ধ তুঙ্গে! জবাবে যা বলেন ঘাটালের সাংসদ?

আসন্ন বর্ষা ও তার সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আবারও রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তৃণমূল সাংসদ দেব এবং বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মধ্যে এই ইস্যুতে কথার লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিলীপ ঘোষ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দেবের ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরলে, দেবও পাল্টা খোঁচা দিয়ে দাবি করেছেন যে দিলীপ ঘোষ খড়গপুরে ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তাকে ‘সফট টার্গেট’ করছেন।
গতকাল ঘাটালে একটি কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ দেব, যেখানে তিনি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কথা বলেন। ঠিক সেই দিনই ঘাটাল থেকে দিলীপ ঘোষ দেবকে তীব্র আক্রমণ করেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, “বছরে একবার বন্যা আসে। বছরে একবার দেব আসেন। পাঁচ বছরে একবার এসে পাগলু ড্যান্স করেন। সবাই ভোট দিয়ে দেন। আমার মনে হয় দেব তিনবার সাংসদ হয়েও মানুষের জীবনের কোনো পরিবর্তন করতে পারেননি। বন্যার কোনো পরিবর্তন করতে পারলেন না। ভগবানের ইচ্ছায় বন্যা আসে, বন্যা যায়। এখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। একজন অসফল সাংসদ।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য দেবের ব্যর্থতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সরকারের ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেব। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “একজন বিজেপি নেতাকে দেখাতে পারবেন যিনি বিধানসভা, রাজ্যসভা বা লোকসভায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কথা বলেছেন? এখন অনেক MP, MLA আছেন। ঘাটালের বিধায়ক রয়েছেন। তিনি কি একটাও লাইন লিখেছেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে? আক্রমণ না করলে রাজনীতি করা যায় না। আমার কোথাও মনে হয় দিলীপ বাবু এবার খড়গপুরের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। সেটার জন্য তো কাউকে একটা ঢিল মারতে হবে। আমি তো সফট টার্গেট এখানে। কিছু না হলেও দেবকে আক্রমণ করতে হবে।” দেবের এই পাল্টা আক্রমণে তিনি বিজেপি নেতাদের ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে নীরবতা এবং দিলীপ ঘোষের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
উল্লেখ্য, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা সমাধানের জন্য একটি বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প। এই প্রকল্প নিয়ে অতীতেও বহুবার রাজনৈতিক তরজা হয়েছে। এবারের এই বাকযুদ্ধ আসন্ন নির্বাচনের আগে ঘাটালের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল, যেখানে বন্যা এবং উন্নয়ন আবারও প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে চলেছে।