“বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে ধস!”-কোন ৫ ভুলে হাতছাড়া হল বাঁকিপুর? ফাঁস আসল কারণ

টানা ৩৫ বছর ধরে যে আসনটি ছিল বিজেপির একেবারে অজেয় ও শক্ত ঘাঁটি, সেই বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই বদলে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রথমবার সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নেমেই বড় চমক দিলেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ তথা জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। বিজেপির শক্ত দুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৩২৪ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলেন তিনি। বাঁকিপুরের মাটিতে এই প্রথমবার পতপত করে উড়ল জন সুরাজের পতাকা।

কীভাবে এল এই ঐতিহাসিক জয়?

উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারণত শাসক দল বা দীর্ঘদিন ধরে জেতা দলগুলি বাড়তি সুবিধার জায়গায় থাকে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে, সম্পূর্ণ নতুন একটি রাজনৈতিক দল নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের এই জয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ময়দানে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ, বুথস্তরে শক্ত সংগঠন তৈরি, তরুণ ভোটারদের মন জয় করা এবং স্থানীয় সমস্যাগুলিকে হাতিয়ার করেই বৈতরণী পার করেছেন পিকে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুধু প্রশান্ত কিশোরের রণকৌশলই নয়, এই হারের পেছনে বিজেপির বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ কৌশলগত ভুলও দায়ী।

বিজেপির হারের নেপথ্যের ৫টি বড় কারণ:

রাজনৈতিক পর্যালোচকদের মতে, বাঁকিপুর হাতছাড়া হওয়ার পেছনে মূলত এই বিষয়গুলি কাজ করেছে—

  1. নীতীশ কুমারের প্রস্থান ও সমীকরণ বদল: দীর্ঘদিন ধরে বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমার মহিলা ও অতিপিছিয়ে পড়া ভোটারদের অন্যতম ভরসার মুখ ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর সরে যাওয়ার পর এনডিএ-র চেনা সামাজিক ও ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে, যার প্রভাব পড়ে শহুরে ও নিরপেক্ষ ভোটারদের ওপর।

  2. সম্রাট চৌধুরীর প্রভাবের অভাব: বিজেপি নেতৃত্ব আশা করেছিল নতুন নেতা সম্রাট চৌধুরীর মুখ একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু বাঁকিপুরের মতো শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত শহুরে কেন্দ্রে সেই ম্যাজিক সেভাবে কাজ করেনি। বরং নতুন বিধায়ক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে ভিন্ন মনোভাব দেখা যায়।

  3. আইনশৃঙ্খলা ইস্যু: ভোটের ঠিক আগে ভরত তিওয়ারি এনকাউন্টারের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দেয়। বিরোধীরা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা ভোটের বাজারে অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এবং তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যালট বাক্সে।

  4. পিকের ‘ন্যারেটিভ’ বদল: প্রচারে চলাকালীন বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদকে ঘিরে একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রশান্ত কিশোর অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সেই বিতর্কটিকে স্থানীয় মানুষের আত্মসম্মানের সঙ্গে জুড়ে দেন। এই মাস্টারস্ট্রোক ভোটারদের বড় একটা অংশের মানসিকতা পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।

  5. বিকল্পের খোঁজে ভোটাররা: দীর্ঘদিন ধরে বাঁকিপুরের রাজনীতি মূলত বিজেপি এবং আরজেডি—এই দুই প্রধান শক্তির আবর্তেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার ভোটাররা চিরাচরিত এই দুই শিবিরের বাইরে গিয়ে একটি নতুন ও শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প বেছে নিতে চেয়েছেন, যার সম্পূর্ণ ফায়দা তুলেছেন প্রশান্ত কিশোর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *