বিধানসভায় মোবাইল ফোনে রামি খেলায় মশগুল রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী! শুরু তীব্র বিতর্ক, কি বললেন মন্ত্রী?

বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন মোবাইল ফোনে রামি খেলায় মত্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে মহারাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী মানিকরাও কোকাটের বিরুদ্ধে। মন্ত্রীর সেই খেলার মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এনসিপি (শরদ পাওয়ার) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে প্রথমে ভিডিওটি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপিকে লক্ষ্য করে রোহিত পাওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন সরকার কৃষকদের প্রতি অসংবেদনশীল। রোহিত পাওয়ার বলেন, “অজিত পাওয়ারের এনসিপি বিজেপির সঙ্গে পরামর্শ না করে কাজ করতে পারছে না। যে কারণে রাজ্যে যখন অসংখ্য কৃষি সমস্যা বিচারাধীন এবং প্রতিদিন আটজন কৃষক আত্মহত্যা করছেন, এই পরিস্থিতিতে কৃষিমন্ত্রী, যার কোনো কাজ নেই, তার রামি খেলার সময় আছে বলে মনে হচ্ছে।” তিনি কটাক্ষ করে আরও বলেন, “এই বিপথগামী মন্ত্রীরা এবং সরকার কি কখনও ফসল বীমা, ঋণ মকুব এবং মূল্য সহায়তার দাবিতে কৃষকদের আবেদন শুনবে? কখনও কখনও গরিব কৃষকদের ক্ষেতেও এসো, মহারাজ!”

অন্যান্য বিরোধী নেতার কটাক্ষ:
এনসিপি (সপা) বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী জিতেন্দ্র আওহাদ এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভার কাজ চলাকালীন যারা রামি খেলে তাদের তিরস্কার নয়, পুরস্কৃত করা হচ্ছে।” কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকারকে কৃষকদের ক্ষেত্রে ‘প্রতারক’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও অভিযুক্ত করেছেন। ওয়াদেত্তিওয়ার বলেন, “কৃষকদের মৃত্যু হচ্ছে, আর কৃষিমন্ত্রী মোবাইল ফোনে গেম খেলছেন! এই প্রতারক এবং বিশ্বাসঘাতক সরকার কৃষকদের নিয়ে চিন্তিত নয়। আমি কৃষকদের কাছে আবেদন করছি তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য।”

অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত জানান, কোকাটে শীঘ্রই তাঁর মন্ত্রী পদ হারাতে পারেন। রাউত বলেন, “অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে ৬-৭ জন মন্ত্রীকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তালিকায় মানিকরাও কোকাটের নামও রয়েছে।”

মন্ত্রীর ব্যাখ্যা:
এই অভিযোগের জবাবে নাসিক জেলার সিন্নার আসনের বিধায়ক কৃষিমন্ত্রী মানিকরাও কোকাটে স্পষ্ট করে জানান, তিনি মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করা গেমটি আসলে সরানোর চেষ্টা করছিলেন। মন্ত্রীর কথায়, “রাজ্য বিধানসভা স্থগিত করা হয়েছিল, তখন আমি কিছু বিষয় পরীক্ষা করার জন্য আমার মোবাইল ফোনটি বের করে ইউটিউব খোলার চেষ্টা করছিলাম। ডাউনলোড করা গেমটি হঠাৎ খুলে যায় এবং আমি এটি সরাতে যাচ্ছিলাম। এটি মাত্র পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ডের ব্যাপার ছিল। কেন সেই অংশটি দেখানো হয়নি?”

মন্ত্রী কোকাটে আরও অভিযোগ করেন, রোহিত পাওয়ার কৃষকদের জন্য তাঁর কাজকে স্বীকৃতি দেন না। তিনি বলেন, “যেহেতু আমি কৃষিমন্ত্রী, আমি আমার দায়িত্বগুলো ভালোভাবেই জানি। আমি কৃষকদের স্বার্থে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিন্তু রোহিত পাওয়ার কখনও এ বিষয়ে কথা বলেন না। তিনি কেবল নেতিবাচক দিকগুলিতে মনোনিবেশ করেন।”

এই ঘটনাকে ঘিরে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক চলছে। বিরোধীরা যেখানে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন, সেখানে মন্ত্রী আত্মপক্ষ সমর্থনে তাঁর কাজের বৈধতা তুলে ধরছেন।