মমতার হাত ধরে মঞ্চে পহেলগাঁওতে মৃত বিতানের মা, শহিদ ঝন্টু আলি শেখের পরিবারকেও জানালেন সম্মান

প্রতি বছরের মতো এবারও তৃণমূল কংগ্রেসের ২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবস পালিত হচ্ছে পূর্ণ মর্যাদায়। তবে এই বছরের শহীদ দিবসের মঞ্চে এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেল, যেখানে দলীয় শহীদদের পাশাপাশি অন্য শহীদদের পরিবারকেও সম্মান জানানো হলো। সোমবার যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহীদ দিবসের মঞ্চে উঠলেন, তখন তাঁর সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় নিহত পর্যটক বিতান অধিকারীর মা। এছাড়াও, মঞ্চে শহীদ ঝন্টু আলি শেখের পরিবারকেও সম্মান জানান মমতা।

গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে এক মর্মান্তিক জঙ্গি হামলায় একাধিক পর্যটকের মৃত্যু হয়, যাঁদের মধ্যে কলকাতার বাসিন্দা বিতান অধিকারীও ছিলেন। এই ঘটনার পর তাঁর ছোট সন্তানকে কোলে নিয়ে ফিরে আসেন বিতানের স্ত্রী। সোমবার শহীদ দিবসের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিতানের বাবা-মাকেই নিজেদের পাশে বসিয়ে সম্মান জানান।

একইভাবে, পহেলগাঁও ঘটনার পর উধমপুরে তল্লাশি চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহীদ হন ঝন্টু আলি শেখ। নদীয়ার তেহট্টের বাসিন্দা ছিলেন এই শহীদ জওয়ান। এদিন তাঁর বাবাও ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে উপস্থিত হন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে সম্মান গ্রহণ করেন।

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুই শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বিতান অধিকারীর পরিবার এবং শহীদ ঝন্টু আলি শেখের পরিবারকে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান যে, এই ফান্ড তৃণমূল কর্মীরা এক টাকা করে দিয়ে তৈরি করেছেন, এবং সেখান থেকেই এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।

২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে এই দুই শহীদ পরিবারকে সম্মান জানানোর ঘটনা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এক মানবিক বার্তা বহন করছে। এটি শুধু দলীয় শহীদদের স্মরণ নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা সকল শহীদদের প্রতি সংহতি ও শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।