“এখানে নাকি ১৭ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে”-রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবার সরব হলেন মমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে আজ কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু এবং বাংলায় বসবাসকারী মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা। তিনি এই ধরনের প্রবণতার তীব্র নিন্দা করেছেন।

আজ ধর্মতলার জনসমুদ্রের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখানে নাকি ১৭ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে। সারা পৃথিবীতে রোহিঙ্গা কত? রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছিল, মোট ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে। বাকি কোথা থেকে এল?” তাঁর এই প্রশ্ন সরাসরি সেইসব দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে, যেখানে বলা হয় যে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

তৃণমূল নেত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, “বাংলায় কথা বললেই তাঁরা রোহিঙ্গা?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সেইসব সমালোচকদের একহাত নেন, যারা বাংলাভাষী মুসলিমদের রোহিঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং এর মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর এই বক্তব্য বাংলার মানুষের প্রতি এই ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ হিসেবে উঠে এসেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে তাঁর ভাষণে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, “দিল্লিতে পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই ২১ জুলাই সমাবেশকে তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে নেত্রী দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মমতার এই মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরে নাগরিকত্ব, অভিবাসন এবং ভাষার রাজনীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেন, তেমনি অন্যদিকে বাংলা এবং বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে হওয়া যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন।