‘দিদির আঁচলে নিরাপদ’, মমতার মুখ আঁকা শাড়ি পরে ধর্মতলামুখী মহিলারা!

আর জি কর থেকে কসবা – রাজ্যে নারী নির্যাতন নিয়ে বিরোধীরা বারবার অভিযোগ তুললেও, একুশে জুলাইয়ের ধর্মতলার মহাসমাবেশে স্বয়ং মহিলারাই প্রমাণ করলেন যে সেই অভিযোগ অন্তঃসারশূন্য। দুর্গাপুরের পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের মহিলা ব্রিগেডের দাবি, তাঁরা ‘দিদি’র আঁচলে সম্পূর্ণ নিরাপদ। আর এই বার্তা দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ আঁকা বিশেষ শাড়ি পরে ধর্মতলামুখী হয়েছেন তাঁরা।

সবুজ রঙের শাড়ি, সঙ্গে হলুদ পাড়, আর আঁচলে সুচারুভাবে আঁকা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ – এই বিশেষ শাড়ি পরেই দুর্গাপুরের পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের মহিলা ব্রিগেড ধর্মতলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের হৃদয়ে। এবার আমরা তাঁকে অঙ্গে ধারণ করলাম। দিদির আঁচলে আমরা নিরাপদ। বিজেপির কাজ শুধু অপপ্রচার করা। এ রাজ্যের মায়েরা ও বোনেরা সম্পূর্ণ নিরাপদ।” উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক জনসভা থেকে দাবি করেছিলেন যে, হাসপাতাল হোক কিংবা কলেজ – রাজ্যের মহিলারা কোথাও সুরক্ষিত নন। মহিলা ব্রিগেডের এই মন্তব্য যেন প্রধানমন্ত্রীর সেই অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিল।

আবেগের নাম একুশে জুলাই। ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের এই মেগা ইভেন্ট, শহিদ স্মরণ উপলক্ষে সকাল থেকেই গোটা চত্বর সরগরম। ‘দিদি’ তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনতে রাত থেকেই দলের কর্মী-সমর্থকরা একটু একটু করে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। আমজনতার ভিড়ও কম নয়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের কোন সুর বেঁধে দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা শুনতে আগ্রহী সকলে। এমন হাইভোল্টেজ সভার জন্য ধর্মতলা চত্বর-সহ গোটা কলকাতা কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় পুলিশি টহল চলছে এবং সকাল থেকে যানবাহনও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই লাখ লাখ মানুষ সমাবেশস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন, যা তৃণমূলের জনভিত্তি এবং মহিলাদের সমর্থনকে আবারও প্রমাণ করছে।