Weather: বঙ্গে ফের চলতি সপ্তাহেই গভীর নিম্নচাপ, কবে থেকে ভারী বৃষ্টি? জেনেনিন পূর্বাভাস

শ্রাবণ মাসের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে ফের সক্রিয় হতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির দাপট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস: কমবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি?

বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে, আগামী বুধবার (২৩ জুলাই) থেকে এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। ওই দিন থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত মাঝারি বৃষ্টি শুরু হতে পারে। যদিও আপাতত ভারী বর্ষণের তেমন আশঙ্কা নেই। আজ, সোমবার এবং আগামীকাল মঙ্গলবার বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও, বুধবার থেকে তা ফের বৃদ্ধি পাবে। বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তুলনামূলকভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি: জারি অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

এদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এই জেলাগুলিতে নদীগুলির জলস্তর বাড়তে পারে এবং নিচু এলাকায় জল জমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্ষা সক্রিয় হওয়ার কারণ

আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে মৌসুমী অক্ষরেখা রাজস্থান, বিহার, ঝাড়খণ্ড হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ ভারতেও কর্ণাটক থেকে অন্ধ্র উপকূল পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। এই দুটি অক্ষরেখার সম্মিলিত প্রভাবেই রাজ্যে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তাপমাত্রা ও অস্বস্তি

বর্তমানে রাজ্যের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশি থাকছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে। তবে, আগামী কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলে এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমলে অস্বস্তি থেকে মুক্তি মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নিম্নচাপের গতিপথ এবং প্রভাবের দিকে আবহাওয়া দফতর নিবিড় নজর রাখছে।