SSC-আবেদনের সময় বাড়ল, ২১ জুলাই পর্যন্ত মিলবে সুযোগ, ক্ষুব্ধ চাকরিহারারা

দীর্ঘদিনের জল্পনা ও বিতর্ক শেষে অবশেষে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনের সময়সীমা আরও সাত দিন বাড়িয়ে দিল। সোমবার পর্যন্ত আবেদনের শেষ তারিখ থাকলেও, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সার্ভার সমস্যার কারণে তা ২১ জুলাই, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এর ফলে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের অ্যাসিস্ট্যান্ট শিক্ষক পদে আবেদন করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা আরও কিছুটা সময় পেলেন।

স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া চালুর প্রথম দিকে পোর্টালে বেশ কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত, ১৬ জুন বিকেল ৫টা থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, পোর্টাল চালু হয় রাত সাড়ে দশটায়। এরপরও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে প্রায় তিন দিন আবেদন পোর্টাল বন্ধ ছিল। এছাড়াও, টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন প্রার্থীরা। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, আবেদন ফি জমা দেওয়ার নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এসএসসি সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত পোর্টালের মাধ্যমে সাড়ে চার লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও নতুন পরীক্ষা:

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের এসএসসি-এর প্যানেলের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ার পর, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনেই গত ৩০ মে শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে এসএসসি। ১৬ জুন থেকে এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল।

চাকরিহারাদের অসন্তোষ ও নবান্ন অভিযান:

এদিকে, নতুন করে পরীক্ষায় বসার প্রশ্নে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা তাঁদের অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই নতুন পরীক্ষায় তাঁরা বসতে নারাজ। এর পরিবর্তে চার দফা দাবিতে তাঁরা সোমবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন। তাঁদের মূল দাবিগুলি হল:

যোগ্য প্রার্থীদের সসম্মানে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে।

রিভিউ পিটিশন থেকে যোগ্যদের চাকরি ফেরানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

যোগ্য প্রার্থীদের শংসাপত্র প্রকাশ করতে হবে।

ওএমআর (OMR) প্রকাশ করে আইনসম্মত উপায়ে রি-প্যানেলের মাধ্যমে চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে।

যদিও এই আন্দোলন ও নবান্ন অভিযানের নির্দিষ্ট সময় এবং জমায়েতের স্থান এখনও ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকদের তরফে ঘোষণা করা হয়নি, তবে এই আন্দোলনের জেরে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসএসসি-এর আবেদনের সময় বৃদ্ধি একদিকে যেমন বহু প্রার্থীকে স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই চাকরিহারাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।