ধর্ষণের হুমকি, বাম নেত্রীদের নিশানায় অধ্যাপক, এসএফআই-এর হাতে ‘পাকড়াও’ হয়ে থানায়

বামপন্থী ছাত্রী ও যুবনেত্রীদের, বিশেষত এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ, দীপ্সিতা ধর এবং সিপিএম যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ উঠল মির্জাপুর সিটি কলেজের অধ্যাপক রাজদীপ মাইতির বিরুদ্ধে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কাজ না হওয়ায়, অবশেষে এসএফআই কর্মীরা শনিবার দুপুরে ওই অধ্যাপককে ধরে সোজা থানায় নিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার ছাত্র ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, অধ্যাপক রাজদীপ মাইতির ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী মহিলাদের উদ্দেশে আপত্তিকর এবং ধর্ষণের হুমকির মতো ঘৃণ্য পোস্ট করা হচ্ছিল। এমনকি তাঁদের ‘রক্ষিতা’ বানানোর হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এসএফআই এই বিষয়ে থানায় একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করলেও, তাদের দাবি, কলকাতা পুলিশ এই বিষয়ে নির্বিকার ছিল এবং কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এসএফআই-এর অ্যাকশন:

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এসএফআই কর্মীরা নিজেরাই শনিবার বিকেলে সরাসরি মাঠে নামেন। এসএফআই কর্মী অর্জুন রায়-সহ বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য কলেজ স্ট্রিট চত্বর থেকে অধ্যাপক রাজদীপ মাইতিকে ধরে ফেলেন। এরপর তাঁকে মুচিপাড়া থানায় নিয়ে গিয়ে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক এফআইআর (FIR) করার আবেদন জানানো হয়।

অভিযোগপত্রে এসএফআই নেতা অর্জুন রায় লিখেছেন, “মির্জাপুর সিটি কলেজের অধ্যাপক রাজদীপ মাইতি নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মহিলাদের প্রকাশ্যে পোস্ট অথবা লাইভের মাধ্যমে ধর্ষণ এবং খুনের হুমকি দেন, সেই ঘটনাবলী আমি প্রত্যক্ষ করেছি। আজ (শনিবার) বিকেল ৪টে ৪৫ মিনিটে সূর্য সেন স্ট্রিটের ওপর দাঁড়িয়ে রাজদীপ মাইতি মহিলাদের উদ্দেশে অশালীন আচরণ করছিলেন। তাই দেখে আমি কথা বলতে যাই এবং উনি আমার অশ্রাব্য গালিগালাজ শুরু করেন ও হেনস্থার চেষ্টা করেন। এমতাবস্থায় আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আমি ও কয়েকজন মিলে ওঁকে নিয়ে থানার দ্বারস্থ হই।” তিনি ধারাবাহিক এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিলের আবেদন জানিয়েছেন।

পথেই ক্ষোভের প্রকাশ:

অধ্যাপককে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তাতেই কয়েকজন মহিলা তাঁর উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তাঁর উদ্দেশে তীব্র নিন্দাবাচক মন্তব্যও শোনা যায়। এই দৃশ্য আরও বেশি করে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনরোষের চিত্র তুলে ধরেছে।

এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে এই ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় বলেছেন, “বলেছিলাম এই চত্বরে দেখলেই খবর আছে! বিকৃতকাম, অসভ্য, ইতর রাজদীপ মাইতিকে ধরা হয়েছে। থানা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অ্যাকশন নিক। নাহলে ছাত্রদেরই অ্যাকশন নিতে হবে।”

অধ্যাপকের উপর মহিলাদের ক্ষোভ প্রদর্শনের বিষয়ে দেবাঞ্জন বলেন, “দাদা, আমি একটু মারব? এটা বাংলার হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর প্রশ্ন। প্রায় এক দশকের ওপর ধরে চলতে থাকা ক্যাম্পাসের ভেতর তৃণমূলের গুন্ডাতন্ত্রে নির্যাতিত হওয়া ছেলেমেয়েদের অব্যক্ত গোঙানিগুলোর প্রতি কান পেতে শুনলে এই প্রশ্নটাই শোনা যাবে। এই প্রশ্নটার মধ্যে রাগ আছে, ক্ষোভ আছে, যন্ত্রণা আছে, ধীক্কার আছে, ঘেন্না আছে আর আছে প্রত্যয়। চোয়াল শক্ত করা প্রত্যয়। এই প্রশ্নটাই ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে তৃণমূলের ক্রাইম নেটওয়ার্কের মাতব্বরদের ঘুমোতে দেবে না। ক্যাম্পাস ছাড়া করে ছাড়বে ক্রিমিনালদের। মিলিয়ে নেবেন।”

এই ঘটনা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা এবং সামাজিক মাধ্যমে মহিলাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মহলে এর প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেটাই দেখার।