কলেজের ইউনিয়ন রুমে বিছানা, ভিতরে চলছে ম্যাসাজ! যুক্তি দিলেন অধ্যক্ষ

পশ্চিমবঙ্গের কলেজ রাজনীতিতে ফের বিতর্ক। এবার কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের ইউনিয়ন রুমে ‘ম্যাসাজ’ নেওয়ার ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অভিযোগের আঙুল শাসক দলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) দিকে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, কলেজের ইউনিয়ন রুমে একজন যুবক আরেকজনকে ম্যাসাজ দিচ্ছেন। জানা গিয়েছে, ওই যুবকের নাম দেবজ্যোতি পাল। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক মহল। বিরোধীরা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
এবিভিপি নেতা নিপুণ নস্কর বলেন,“কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে এই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়? যাঁরা এটা করছে তারা কি ছাত্র? এই ঘটনায় অধ্যক্ষ নিজেও দায় এড়াতে পারেন না। তিনি জানেন বহিরাগতরা কলেজে ঢোকেন। তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?”
ডিওয়াইএফআই নেতা স্বপ্নময় সাহা সরাসরি স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের দিকে আঙুল তুলে বলেন,“এই বিধায়কের মদতেই কলেজ এখন বিয়ে বাড়ি হয়ে উঠেছে। কখনও ম্যাসাজ পার্লার, কখনও খেলনার মেলা। আসলে কলেজ থেকে পড়াশোনা উঠে গেলেই তৃণমূলের সুবিধে।”
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন টিএমসিপি নেতা সৌম্যদীপ গায়েন।তিনি বলেন, “ভিডিয়োতে যে যুবক রয়েছে তিনি কলেজের ছাত্র নন। বিকেলে কলেজ মাঠে ফুটবল খেলতে এসে আহত হন এক বন্ধু। সেই কারণেই হয়তো গা টিপে দিচ্ছিল। ছাত্র সংসদের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।”
কলেজের অধ্যক্ষ শুভঙ্কর চক্রবর্তীও জানিয়েছেন,“মাঠে কলেজ ছাড়াও স্থানীয়রাও খেলেন। ইউনিয়ন রুম খোলা থাকে, অনেক সময় সেখানে পোশাক বদলায় তারা। খেলতে খেলতে কারও ব্যথা লাগলে এরকম কিছু হয়ে থাকতে পারে। তবে আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত নই। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এই ঘটনার মূল ব্যক্তি দেবজ্যোতি পাল বলেন,“আমি কলেজের ছাত্র নই। ঘটনাটি তিন বছর আগের। আমরা বিকেলে মাঠে খেলতে যেতাম। ওই দিন বৃষ্টি হচ্ছিল, তাই পোশাক না বদলে ইউনিয়ন রুমে ঢুকে গা টিপে দিচ্ছিলাম বন্ধুকে।”
এদিকে, এই ঘটনার রেশ টানছে রাজ্যের অন্যান্য বিতর্কিত ছাত্র রাজনীতি সংক্রান্ত ঘটনা। কিছুদিন আগেই কলকাতার এক কলেজে টিএমসিপি নেতার ছাত্রীকে দিয়ে মাথা টেপানোর ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। একাধিক ঘটনায় উঠে এসেছে শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও।