মেয়েদের স্কুলের হস্টেলে ঢুকে শিশুদের যৌন নির্যাতন! গণপিটুনিতে মৃত্যু কিশোরের

অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার দিবাং ভ্যালির রোয়িং শহরে এক ভয়াবহ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এলাকায় ছোট ছোট মেয়েদের ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক কিশোরকে শুক্রবার পুলিশ স্টেশন থেকে টেনে বের করে পিটিয়ে হত্যা করেছে ক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনা গোটা অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় এলাকার ছোট ছোট মেয়েদের ওপর এক কিশোরের বারবার যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে। জানা গেছে, অভিযুক্ত এই কিশোর আদতে অসমের বাসিন্দা ছিল এবং রোয়িং শহরে কাজ করত। সূত্রের দাবি, সে এলাকার একটি স্কুলের হস্টেলে ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিত এবং বিশেষভাবে ছয় থেকে আট বছর বয়সী মেয়েদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাত।
অপ্রাপ্তবয়স্ক শিকার, দেরিতে প্রকাশ
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা মেয়েগুলির বয়স এতটাই কম যে, তারা ঘটনার গভীরতা বা এর প্রভাব সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারেনি। পরে তারা পেটে ব্যথা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কথা তাদের অভিভাবকদের জানায়। বাবা-মায়েরা মেয়েদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন বিষয়টি যৌন নির্যাতনের। প্রথমে একটি মেয়ের বাবা-মা এই অভিযোগ দায়ের করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ওই অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।
জনতার রোষ, পুলিশের অসহায়ত্ব
শুক্রবার, যখন এলাকায় জানাজানি হয়ে যায় যে এই কিশোর শুধু একজন নয়, বরং আরও বেশ কয়েকজন নাবালিকা মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে, তখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। বিকেলে রোয়িং থানায় শত শত ক্ষুব্ধ মানুষ জড়ো হয় এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জনতা প্রথমে থানায় ভাঙচুর চালায়, তারপর অভিযুক্ত কিশোরকে জোর করে টেনে বাইরে বের করে আনে। এরপর শুরু হয় বেধড়ক মারধর, যার ফলস্বরূপ ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন পুলিশ এই গণপিটুনি আটকাতে পারল না? জানা গেছে, থানায় সেসময় পুলিশকর্মীদের সংখ্যা জনতার তুলনায় অনেক কম ছিল, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। অন্য থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কিশোরটির মৃত্যু হয়।
এই ঘটনা একদিকে যেমন শিশুদের ওপর হওয়া বর্বরোচিত যৌন নির্যাতনের দিকটি তুলে ধরছে, তেমনই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং আইন-শৃঙ্খলার দুর্বলতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ এই ঘটনার পর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর।