পরনে গেরুয়া বস্ত্র, সাধুর বেশে বড় চক্রান্ত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর! হাতে নাতে ধরল পুলিশ

কেরামতি, প্রণাম, আর ভক্তদের দানে ফুলে ফেঁপে উঠেছিল দেরাদুনের কিছু স্বঘোষিত ‘সাধুবাবা’। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ তাঁদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেন, কেউ আবার দান-দক্ষিণায় পিছপা হতেন না। এলাকাবাসীর মধ্যে দাবি ছিল, এই ‘বাবারা’ নাকি অলৌকিক শক্তির অধিকারী। তবে সেই আবরণে লুকিয়েই চলছিল প্রতারণা।
সেই ভুয়ো সাধুবেশেই অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল একাধিক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।
উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন থেকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার অজয় সিং জানান,“তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা সাধুর ছদ্মবেশে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ ছিল। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রশ্ন করার পরই ফাঁস হয়ে যায় আসল পরিচয়—না আছে কোনও গুরু, না আছে জ্যোতিষবিদ্যার শংসাপত্র।”
পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন ভারতের নাগরিক হলেও, বেশ কয়েকজন বাংলাদেশ থেকে বেআইনি ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। এরপর সাধুর বেশ ধরে নানা এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা চালাচ্ছিল তারা।
এই কারণেই শুধু প্রতারণা নয়, বিদেশি আইনের ধারাতেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনিয়ে একজন বাংলাদেশিকে ইতিমধ্যেই জেরা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইনটেলিজেন্স ব্যুরো (IB)। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন,“আমরা রাজ্যের সমস্ত থানায় নির্দেশ পাঠিয়েছি। সন্দেহভাজন ভুয়ো সাধুদের ধরতে জোরদার অভিযান চলছে।”
উল্লেখ্য, দু’মাস আগেও উত্তরাখণ্ড জুড়ে অবৈধ মন্দির ও আশ্রম ভাঙার সময় বেশ কয়েকজন ভুয়ো সাধুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।