বিবাহিত প্রেমিকা নয়, হবু বউদি-দাদার হাতেই মার খেলেন যুবক! পাচারকারী সন্দেহে কোচবিহারে তুলকালাম

বিবাহিত প্রেমিকাকে নিয়ে পালাতে এসে চরম বিপাকে পড়লেন এক যুবক। কোচবিহারের NBSTC সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাসে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে এক নাটকীয় ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী ওই যুবক জনতার হাতে মারধর খেয়েছেন। তবে আসল চমক ছিল অন্যখানে: প্রেমিকার বদলে যুবকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তাঁর হবু বউদি এবং দাদা। তাঁরা যুবককে ‘মেয়ে পাচারকারী’ সন্দেহে ধরে ফেলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে।

ঘটনার বিবরণ:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে কোচবিহারের সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাসে এই ঘটনা ঘটে। যুবক রেজাউল হক (৩২) তাঁর প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, যাঁকে নিয়ে তিনি পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু প্রেমিকার জায়গায় বাসস্ট্যান্ডে হাজির হন তাঁর দাদা মিলন বর্মন এবং তাঁর হবু বউদি। তাঁদের দাবি, রেজাউল একজন মেয়ে পাচারকারী এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের বিবাহিত বোনকে ভিনরাজ্যে পাচার করার চেষ্টা করছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ ও যুবকের সাফাই:

প্রেমিকার দাদা মিলন বর্মন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বোনের দুই সন্তান রয়েছে। তার সংসার ভাঙার মতো পরিস্থিতি। প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ওকে ভিনরাজ্যে পাচারের জন্য এদিন কোচবিহারে আসে ওই যুবক। আমরা ওর শাস্তি চাই।”

তবে অভিযুক্ত রেজাউল হক নিজের উপর ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে প্রেমিকা ফোন করেছিল, তাই দেখা করতে এসেছি। আমাকে মারধর করেছে। এখন বলছে আমি নাকি পাচারকারী। আমি কিছু জানি না।”

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত:

ঘটনা প্রত্যক্ষ করে বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং প্রথমে তিনজনকেই (রেজাউল, মিলন বর্মন ও হবু বউদি) আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

কোচবিহারের এক পুলিশ আধিকারিক জানান, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে কোচবিহারের কুশিয়াবাড়ির বাসিন্দা রেজাউলের সঙ্গে দিনহাটার বামনহাটের এক গৃহবধূর বাসে পরিচয় হয়। এরপর তাঁরা মাঝেমধ্যে দেখা করতেন। দিন তিনেক আগেও তাঁরা ফালাকাটার একটি হোটেলে দেখা করে কিছুটা সময় কাটান।

আজ তাঁদের কোচবিহার NBSTC বাস টার্মিনাসে দেখা করার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী যুবক হাজির হলেও, প্রেমিকার বদলে তাঁর দাদা ও হবু বউদি এসে হাজির হন এবং রেজাউলকে দেখতে পেয়ে মারধর করেন। এই দৃশ্য দেখে বাসস্ট্যান্ডে থাকা যাত্রীরা এবং বাসকর্মীরা ভিড় জমান।

এখন পুলিশ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং পাচারকারী অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছে। লিখিত অভিযোগ না হলেও এই ঘটনা কোচবিহারের জনমানসে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।