“৮০% হিন্দু ভোট পেলে ‘মুসলিম লিগ সরকারকে’ উপড়ে ফেলবে বিজেপি”-শুভেন্দুর মন্তব্যে বিতর্ক

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের অঙ্ক কষে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “আর ৪ থেকে ৫ শতাংশ ভোটের দরকার। ৬৮ শতাংশ হিন্দু ভোট দিয়েছিল গত লোকসভা ভোটে। ৮০ ভাগ হিন্দু ভোট দিলে ২৬ সালে জাতি অত্যাচারী, মুসলিম লিগ সরকারকে উপড়ে ফেলে দেবে বিজেপি।” শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দলের জয়ের জন্য নির্দিষ্ট ভোটের শতাংশের কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্টতই হিন্দু ভোটের মেরুকরণের উপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, যদি হিন্দু ভোটের হার ৮০ শতাংশে পৌঁছায়, তাহলে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারবে। বর্তমান রাজ্য সরকারকে তিনি ‘জাতি অত্যাচারী’ এবং ‘মুসলিম লিগ সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল।

শুভেন্দু অধিকারী বামফ্রন্ট, বিশেষ করে সিপিএম-এর বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “সাবধান থাকতে হবে সিপিএমের থেকে। মুসলিমদের মিছিলে হাঁটায়। ভোট কাটে হিন্দুদের।” তাঁর এই মন্তব্য বামপন্থীদের বিরুদ্ধে বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগকেই তুলে ধরে, যেখানে বামেরা সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি করে বলে অভিযোগ করা হয়। একই সাথে তিনি হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে বামেদের প্রভাব কমানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উস্কে দেবে। একদিকে যখন তৃণমূল কংগ্রেস বিভেদের রাজনীতির অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যেই হিন্দুত্বের এজেন্ডাকে সামনে নিয়ে আসছেন।

এই মন্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে একে বিভাজনমূলক রাজনীতি আখ্যা দিয়েছে। সিপিএম অবশ্য শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।