কসবা কাণ্ড, অভিযোগ দায়েরের খবর পেয়েই আইনজীবীকে ফোন মনোজিতের? সিডিআর-এ চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের বিরুদ্ধে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৬ জুন, অর্থাৎ নির্যাতিতার পরিবার থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই মনোজিৎ এক আইনজীবীকে ফোন করেছিলেন। কল ডেটা রেকর্ড (CDR) থেকে এই তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে, যা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অভিযোগ দায়েরের আগেই সতর্কতা?

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২৬ জুন সকাল থেকেই মনোজিৎ মিশ্র এবং জইব (অন্য এক অভিযুক্ত) নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন। তাঁরা সম্ভবত আঁচ করতে পেরেছিলেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হতে চলেছে। এই বিষয়টি সুনিশ্চিত হওয়ার পরই মনোজিৎ ওই আইনজীবীকে ফোন করেন। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ফোন কি শুধুমাত্র আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্যই করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল।

মনোজিতের দাপটে বন্ধ হয়েছিল গেট রেজিস্টার:

এর আগে ধৃত নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে যে, মনোজিৎ মিশ্রের নির্দেশেই কলেজের মূল ফটকে থাকা ভিজিটরস রেজিস্টার বা গেট রেজিস্টার লেখা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই রেজিস্টারে বাইরের কোনো ব্যক্তি কলেজে প্রবেশ করলে তার নাম ও পরিচয় নথিভুক্ত করার কথা ছিল। পিনাকী জেরায় দাবি করেছেন, মনোজিৎ এর আগেও একাধিকবার নিরাপত্তারক্ষীদের শাসিয়েছিলেন রেজিস্টার মেইনটেইন না করার জন্য। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, মনোজিৎ প্রায়শই যখন তখন বাইরের লোকজনকে কলেজে নিয়ে আসতেন এবং ইউনিয়ন রুমে আড্ডার আসর বসাতেন। এই অবৈধ আসর নির্বিঘ্নে চালাতেই তিনি ভিজিটরস রেজিস্টারে অতিথিদের পরিচয় লেখার নিয়ম বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

গোয়েন্দা বিভাগের হাতে তদন্ত:

এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে মামলার গুরুত্ব বেড়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) অফিসিয়াল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (DD) এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। ডিডি এই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করবে। এই দলে উইমেন গ্রিভান্স সেলের একজন অফিসার তদন্তকারী অফিসার হিসেবে থাকবেন। এছাড়াও, থানায় যে SIT আগে কাজ করছিল, তার কয়েকজন সদস্য এই টিমে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সাইবার ক্রাইম বিভাগের অফিসাররাও এই তদন্তে যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ দায়েরের খবর পেয়েই আইনজীবীকে ফোন করা এবং গেট রেজিস্টার বন্ধ করে রাখার ঘটনা মনোজিৎ মিশ্রের প্রভাব এবং পরিকল্পিত কার্যকলাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই নতুন তথ্যপ্রমাণ মামলার তদন্তকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন সবার নজর।