রথের দড়ি ছুঁলেই জীবনে আসে বিশেষ সুখবর, রশি নিয়ে বেশ কয়েকটি রীতি রেওয়াজও প্রচলিত আজও

জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুধু এক ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির চেতনায় এটি এক অবিচ্ছেদ্য আবেগ। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময়কাল থেকে পুরীর রথযাত্রা বাঙালির হৃদয়ে দাগ কেটে এসেছে। তবে জগন্নাথদেবের প্রতি বাংলার শ্রদ্ধা তারও বহু আগে থেকে। এই উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ রথের দড়ি। লোকবিশ্বাস, শাস্ত্রের উল্লেখ, এবং আত্মিক অনুভব— সবকিছু মিলে এই রশির গুরুত্ব অনন্য।
আজও লক্ষ লক্ষ মানুষ পুরীতে ছুটে যান একটিবার রথের দড়িতে হাত দেওয়ার আশায়। কেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক রথের দড়ি টানার সেই শুভ ফলগুলো—
🔶 পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি
শাস্ত্র অনুযায়ী, রথের দড়ি টানলে জীবনে আর পুনর্জন্ম হয় না। এই বিশ্বাস অনুসারে, যিনি রথ টানেন, তিনি মোক্ষলাভ করেন— জাগতিক দুঃখ ও বন্ধনের অবসান ঘটে। জীবনের সব ক্লেশ থেকে পরিত্রাণ মেলে।
🔶 পাপক্ষালন
রথের দড়ি ধরা মানে জীবনের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া। বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, একবার এই পবিত্র দড়ি ছুঁতে পারলেই জীবনের অপকর্ম ধুয়ে মুছে যায়। তাই পুরীর রথযাত্রায় প্রতিবছর মানুষের ঢল নামে শুধু এই পরিশুদ্ধির আশায়।
🔶 গঙ্গাস্নানের সমান পুণ্য
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়িতে টান দিলে গঙ্গাস্নানের সমান পুণ্যফল লাভ হয়। তাই বহু মানুষের জীবনের একটাই লক্ষ্য— অন্তত একবার এই দড়িতে টান দেওয়া।
🔶 অশ্বমেধ যজ্ঞের তুল্য
স্কন্দপুরাণে বর্ণনা রয়েছে— রথের দড়ি টানার পুণ্যফল অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান। অর্থাৎ, যিনি রথ টানেন, তার জীবনে আসে সমৃদ্ধি, শুদ্ধতা ও ঈশ্বরের কৃপা।
🔶 শিশুদের জন্য মাদুলি
রথের দড়ির কিছু সুতো অনেকেই কেটে মাদুলি তৈরি করে শিশুদের গলায় পরিয়ে দেন। বিশ্বাস, এতে জগন্নাথদেব নিজেই সেই শিশুর রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠেন— রোগবালাই থেকে রাখেন সুরক্ষিত।
রথের দড়ি শুধু একটি রশি নয়, এটি এক দেবত্বের স্পর্শ। এই এক টানেই মিলতে পারে জীবনের মোক্ষ, পুণ্য ও ঈশ্বরের অনুগ্রহ। তাই আজও বহু মানুষ মনেপ্রাণে এই রশি ছোঁয়ার আশায় বুক বেঁধে থাকেন।
আপনি কি কোনওদিন রথের দড়ি টেনেছেন? না হয়ে থাকলে, হয়তো এবারই সুযোগ!