রাতে বিছানায় শুয়ে ছিলেন স্বামী-স্ত্রী, হঠাৎ আচমকা শব্দে ঘটলো চরম বিপত্তি, চাঞ্চল্য ঘটনায়

গভীর রাতে ঘরের ভেতরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু কে জানতো, দুর্বল একটি দেয়ালই কেড়ে নেবে তাঁদের জীবন! দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি থানার বিষ্ণুরামপুর এলাকায় মর্মান্তিকভাবে দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হলো এক বৃদ্ধ দম্পতির। মৃতরা হলেন শিবপ্রসাদ মণ্ডল (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী রেনুকা মণ্ডল (৬৫)। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পারেন এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে শিবপ্রসাদ ও রেনুকা রাতের খাবার খেয়ে তাঁদের নির্দিষ্ট ঘরে ঘুমোতে যান। পাশের ঘরেই ঘুমোচ্ছিলেন তাঁদের ছেলে ও পুত্রবধূ। হঠাৎ করেই গভীর রাতে বাড়ির একটি পুরনো ও জীর্ণ দেয়াল বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। চারপাশে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘুমের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন ওই দম্পতি।
বৃহস্পতিবার সকালে শিবপ্রসাদের পরিবারের সদস্যরা প্রথম এই ভয়াবহ দৃশ্যটি দেখেন। তাঁরাই প্রতিবেশীদের খবর দেন। এরপর পরিবারের লোকজন এবং প্রতিবেশীদের সাহায্যে ভেঙে পড়া দেওয়ালের নিচ থেকে দম্পতির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে কুলপি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দম্পতিকে উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
শিবপ্রসাদের ছেলে রাজু মণ্ডল জানান, গভীর রাতে তাঁরা সকলেই ঘুমাচ্ছিলেন এবং এই দুর্ঘটনা কখন ঘটলো, তা তাঁরা কেউ টের পাননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা এই মর্মান্তিক ঘটনা জানতে পারেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ির ওই অংশটি ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে দেওয়ালের ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার জেরেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। দুর্বল ও পুরনো বাড়ির দেওয়াল মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে স্থানীয়দের মধ্যে।