ভারতের বায়ু সেনা অভিনন্দনকে আটক করেছিলেন, সেই পাক মেজর নিকেশ এনকাউন্টারে

২০১৯ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করার দাবি করে যিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন, সেই পাক সেনার মেজর মইজ আব্বাস শাহ এবার প্রাণ হারালেন এক অভ্যন্তরীণ বন্দুকযুদ্ধে। পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে এই পাক মেজরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা ২০১৯ সালের সেই উত্তপ্ত ঘটনার স্মৃতি উসকে দিয়েছে।

পাক সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার খাইবার পাখতুনখোোয়ার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান জেলায় টিটিপি’র বিরুদ্ধে পরিচালিত এক অভিযানে মোট ১১ জন টিটিপি জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। ডন নিউজ সূত্রে খবর, এই অভিযানের সময়ই মইজ আব্বাস শাহ সহ দুই সেনা জওয়ান নিহত হন।

কী ঘটেছিল ২০১৯ সালে?

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন। এই হামলায় গোটা দেশ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। এর জবাবে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি শিবিরে এয়ার স্ট্রাইক চালায়, যেখানে বহু জঙ্গির মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়।

এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯-এ পাক বায়ুসেনা ভারতের উপর পাল্টা হামলা চালানোর চেষ্টা করে এবং ভারতীয় আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে। সেই সময় উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান তাঁর মিগ-২১ যুদ্ধবিমান নিয়ে পাক এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করেন এবং সফলভাবে সেটিকে ভূপাতিত করেন। কিন্তু এই অসম সাহসী লড়াইয়ের সময়ই পাকিস্তানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অভিনন্দনের মিগ-২১ বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাঁকে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তিনি নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়ে পড়েন এবং সেখানে তাঁকে বন্দি করা হয়।

অভিনন্দনকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানা চলেছিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। অবশেষে বিশ্বজুড়ে প্রবল কূটনৈতিক চাপ এবং ভারতের কঠোর অবস্থানের পর পাকিস্তান অভিনন্দনকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তিনি ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে সসম্মানে ভারতে ফিরে আসেন।

সেই সময়ই মেজর মইজ আব্বাস শাহ অভিনন্দনকে আটকের দাবি করেছিলেন এবং বিভিন্ন পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে তাঁর ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল। আজ টিটিপি’র হাতে তাঁর মৃত্যু ২০১৯ সালের সেই নাটকীয় ঘটনার স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে আনল।

বি.দ্র.: প্রদত্ত তথ্যে মইজ আব্বাস শাহ-এর দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। এখানে কেবলমাত্র প্রদত্ত সূত্র অনুযায়ী তাঁর দাবির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।