জেগে উঠেছে আগ্নেয়গিরি! দিল্লি থেকে বালিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে বিরাট বিপত্তি

সম্প্রতি একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে এয়ার ইন্ডিয়া আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে সংস্থাটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ও যাত্রী নিরাপত্তা। এই পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার বালি বিমানবন্দরের কাছে সক্রিয় একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বুধবার এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি-বালি উড়ানটিকে মাঝপথ থেকে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার একটি আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। সে দেশের পর্যটন দ্বীপ ফ্লোরেসের মাউন্ট লেওটোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরি থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি সংস্থা জানিয়েছে, ১,৫৮৪ মিটার (এক মাইল) উঁচু দুই জ্বালামুখের আগ্নেয়গিরিটি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়, যা পর্যটন দ্বীপ ফ্লোরেসের উপরে বিশাল মেঘ তৈরি করে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ ওয়াফিদ সতর্ক করে বলেছেন, অগ্ন্যুৎপাতের ৭ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা নিরাপদ নয় এবং লাভা প্রবাহ নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন।
এই আবহে বুধবার এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২১৪৫ দিল্লি-বালিগামী বিমানটিকে মাঝপথ থেকে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করেছে এবং সমস্ত যাত্রীরাও নিরাপদে রয়েছেন। এয়ার ইন্ডিয়ার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে, বালি বিমানবন্দরের কাছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দিল্লি থেকে বালিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই ২১৪৫-কে দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং যাত্রীদের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা হয়েছে। বাতিল বা বিনামূল্যে ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।”
গত ১২ জুন গুজরাটের আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী একটি বিমান টেক অফের পরপরই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি-সহ মোট ২৪২ জন বিমানে ছিলেন এবং রমেশ বিশ্বাসকুমার বাদে বাকি সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন এবং শুক্রবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। টাটা গ্রুপ মৃতদের পরিজনদের ১ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে।
এই দুর্ঘটনার পর থেকেই বিমান সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার পরপরই এয়ার ইন্ডিয়ার একের পর এক বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে, যার জেরে একাধিক উড়ান বাতিল হয়েছে। যে রুটে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ভেঙে পড়েছিল, সেই একই রুটে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় উড়ান বাতিল করে দেওয়া হয়। সানফ্রান্সিসকো-মুম্বই হয়ে কলকাতা রুটে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানেও যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। সোমবার হংকং-দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিমলাইনার উড়ানেও মাঝআকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে।
বারবার এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বালি থেকে ফিরতে হল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানকে, যা সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।