আজ ১৯ জ্যৈষ্ঠ লোকনাথ বাবার তিরোধান তিথিতে অলৌকিক অজানা কিছু কাহিনি জেনেনিন

আজ উনিশে জ্যৈষ্ঠ, মঙ্গলবার। বাঙালির ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নাম – বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী। ১৭৩৫ খ্রিস্টাব্দের (১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১৯ জ্যৈষ্ঠ) এই দিনে অধুনা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার অন্তর্গত চাকলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতার নাম ছিল রামনারায়ণ ঘোষাল এবং মায়ের নাম কমলাদেবী।
জীবন ও সন্ন্যাস দীক্ষা
বাবা লোকনাথ ছিলেন বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তান। মাত্র ১১ বছর বয়সে তার উপনয়ন সম্পন্ন হয়। এরপর তাকে পাশের গ্রামের ভগবান গাঙ্গুলীর হাতে সন্ন্যাস দীক্ষার জন্য তুলে দেওয়া হয়েছিল। তার বাল্যবন্ধু বেণীমাধবও তার সঙ্গে সন্ন্যাস জীবন বেছে নিয়েছিলেন।
অলৌকিক মহিমা ও ভক্তদের বিশ্বাস
লোকনাথ বাবাকে অনেকেই স্বয়ং শিবের অবতার মনে করেন। কথিত আছে, বাবা যখন বরোদার আশ্রমে ছিলেন, সেই সময় সেই গ্রামের কামাখ্যা নামে এক অহংকারী সাধক তার সিদ্ধি লাভের প্রমাণ দিতে বলেছিলেন। লোকনাথ বাবাকে ধুতরা ফুল ও ভয়ঙ্কর সাপের বিষ দেওয়া হয়েছিল। বাবা লোকনাথ স্বেচ্ছায় সেই বিষ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলতেন, তার মায়ের হাতের দুধ মৃত্যুকেও জয় করতে পারে।
শোনা যায়, চিতায় শয়নরত অবস্থায় তার মা হাতে করে তাকে একবার দুধ পান করিয়েছিলেন এবং সত্যিই সকলকে অবাক করে দিয়ে তিনি চিতা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছিলেন। এরপরই লোকনাথ বাবার মহিমা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমগ্র ব্রাহ্মণ সমাজ ও সেই কামাখ্যা সাধক তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
তিরোধান ও লোককথা
লোকনাথ বাবা সম্পর্কে এরকম অসংখ্য লৌকিক কাহিনি প্রচলিত আছে। ১৯ জ্যৈষ্ঠ তার তিরোধান দিবস, এই দিনটি মহাসমাধি দিবস হিসেবে পালিত হয়। লোকনাথ বাবা খুব অল্পতেই ভক্তদের উপর সন্তুষ্ট হন বলে প্রচলিত বিশ্বাস। তাকে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বরোদি আশ্রমে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
শোনা যায়, বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বরোদি আশ্রমে এক ভক্তপুত্রের যক্ষ্মা রোগ তিনি নিজে শরীরে ধারণ করায় তার মৃত্যু হয়েছিল এবং বালকটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছিল। বাবার তিরোধানকালে বয়স হয়েছিল ১৬০ বছর। উনিশে জ্যৈষ্ঠ তিনি মহাসমাধি অবস্থায় দেহত্যাগ করেন। তিনি সর্বদা মানুষকে সত্যের পথে চলার জন্য উপদেশ দিয়ে গেছেন।
প্রিয় ভোগ ও ফুল
লোকনাথ বাবার প্রিয় ফুল হলো নীল শাপলা। এছাড়া, বাবাকে নানা রকম সাদা ফুল নিবেদন করা হয়, কারণ সাদা রং তার খুব প্রিয়। মিছরি এবং কালো জাম তার প্রিয় ভোগ। এর সঙ্গে নানা রকম সাদা মিষ্টিও নিবেদন করা হয়। লোকনাথ বাবার পুজোর পাশাপাশি অনেক জায়গায় দেবাদিদেব মহাদেবেরও পুজো করার চল রয়েছে।
প্রতি বছর ১৯ জ্যৈষ্ঠে ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে বাবা লোকনাথকে স্মরণ করে তার অলৌকিক মহিমা ও বাণী থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেন।