“বাংলাদেশে ভোটে লড়তে পারবে জামাত”-নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট

বর্তমানে গভীর অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ। এর মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে। গতকাল, রবিবার, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতে ইসলামীর ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা শেখ হাসিনা সরকার ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার’ অভিযোগে আরোপ করেছিল।

আদালতের এই রায় জামায়াতে ইসলামীর জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর ফলে শুধু যে দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ খুলে গেল তাই নয়, দলটির নেতাদের গ্রেপ্তারের ভয়ও দূর হয়েছে এবং কারাবন্দী নেতাদের মুক্তির পথও সুগম হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে একসময় আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল জামায়াত। কিন্তু সম্প্রতি, আওয়ামী লীগ সরকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর তাদের ওয়েবসাইট সহ সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকার জামায়াত এবং তার ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-যোগের অভিযোগ এনেছিল এবং ২০২৪ সালের ১লা আগস্ট দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মাত্র চার দিন পর, ৫ই আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসার পর জামায়াত এবং তার ছাত্র শাখার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

যুনূস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই দলগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই দুটি দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা জানায়।

বাংলাদেশের এই দ্রুত পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের নির্বাচনী ময়দানে ফিরে আসা নিঃসন্দেহে আগামী নির্বাচনের সমীকরণকে জটিল করে তুলবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং আবার সক্রিয় জামায়াতের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখতে উৎসুক আন্তর্জাতিক মহল।