‘আসল’ রিপোর্ট পাওয়া সত্ত্বেও তা প্রকাশ্যে আনেনি সরকার! নেতাজি রহস্য নিয়ে প্রকাশ্যে বড় তথ্য

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কথিত চিতাভস্ম নিয়ে এক নতুন এবং চাঞ্চল্যকর বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দীর্ঘদিন ধরে রেনকোজি মন্দিরে রক্ষিত চিতাভস্ম আদৌ নেতাজির কিনা, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন নেতাজির মেজো দাদা শরৎচন্দ্র বসুর বড় ছেলের পরিবার। সম্প্রতি এই নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অশোকনাথ বসুর দুই মেয়ে জয়ন্তী রক্ষিত ও তপতী ঘোষ এবং তাঁর ছেলে আর্য বসু। উল্লেখ্য, অশোকনাথ বসু ছিলেন নেতাজির মহানিষ্ক্রমণের অন্যতম সহযোদ্ধা। এই বৈঠকে দুই প্রখ্যাত নেতাজি গবেষক, সৈকত নিয়োগী ও সৌম্যব্রত দাশগুপ্তও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে গবেষকরা দাবি করেন যে, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের তাইহোকুতে কোনো বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি। তাঁদের এই দাবির সমর্থনে লন্ডন আর্কাইভ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, যদি বিমান দুর্ঘটনাই না ঘটে থাকে, তাহলে রেনকোজি মন্দিরে যে চিতাভস্ম রাখা আছে, তা কার? নেতাজির পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রের কাছে এই তথাকথিত চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নেতাজি গবেষক সৈকত নিয়োগী জানান, তাঁর গবেষণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে থাকা নেতাজি সংক্রান্ত রিপোর্টগুলো অধ্যয়ন করার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টের সন্ধান পান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাইওয়ান সরকার নিজেই তাদের রিপোর্টে জানিয়েছিল যে, নেতাজির প্রচলিত মৃত্যুর দিনে তাইহোকুতে কোনো বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি। এরপরই গবেষক অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন ইউপিএ সরকার এই রিপোর্ট হাতে পাওয়া সত্ত্বেও তা প্রকাশ্যে আনেনি। উল্টে, নেতাজিকে নিয়ে গঠিত কমিশনগুলোকেও ভুল পথে চালিত করা হয়েছিল।
বৈঠকে উপস্থিত আরেক গবেষক সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত বলেন, “তাইওয়ান সরকারের এমন রিপোর্ট ভারত সরকার ষাটের দশকে পাওয়ার পরেও তা ধামাচাপা দিয়ে দিল। যা প্রমাণ করে, নেতাজির চিতাভস্ম ও বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে কত বড় চক্রান্ত তৈরি করা হয়েছিল।”
তবে, এই বৈঠকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে। গবেষকদের মতে, রাজ্য সরকারের উদ্যোগেই নেতাজির ৪৬টি গোপন তথ্য ডিক্লাসিফাই করা হয়েছিল এবং কেন্দ্র সম্প্রতি ৩০০টি রিপোর্ট ডিক্লাসিফাই করেছে। এই নতুন তথ্য প্রকাশ নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের ওপর আরও আলো ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক বিতর্ক ও গবেষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।