“জঙ্গি আর আত্মরক্ষাকারী এক নয়”- কলম্বিয়ায় গিয়ে সেই দেশের সরকারকে খোঁচা শশী থারুরের

ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানে নিহতদের উদ্দেশ্যে কলম্বিয়া সরকারের ‘শোকবার্তা’ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। শুক্রবার কলম্বিয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কলম্বিয়ার প্রতিক্রিয়াকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেন।
থারুর বলেন, “কলম্বিয়া সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা কিছুটা হতাশ। ওঁরা পাকিস্তানে নিহতদের জন্য আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন, কিন্তু সন্ত্রাসবাদের শিকার যারা, তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেননি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যারা জঙ্গিদের পাঠায়, আর যারা পাল্টা প্রতিরোধ করে, তাদের মধ্যে কোনো তুলনা হয় না। যারা আক্রমণ করে, আর যারা আত্মরক্ষা করে, তারা এক নয়।”
শশী থারুর স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত কেবল আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। তিনি বলেন, “এই মৌলিক বিষয়টি যদি কেউ না বোঝেন, তাহলে আমরা সেটা স্পষ্ট করে দিতেই এখানে এসেছি। আমরা কলম্বিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনায় আগ্রহী।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহদের ওপর নৃশংস জঙ্গি হামলার পরই ভারতের তরফে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’।
থারুর কলম্বিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “ঠিক যেমন কলম্বিয়াও বহু বছর ধরে জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছে, তেমনই ভারতও প্রায় চার দশক ধরে বারবার সন্ত্রাসবাদী হামলা সহ্য করছে। এই বাস্তবতা বোঝা খুব জরুরি।” তিনি আরও জানান, “আমাদের মনে হয়েছে, হয়তো পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা হয়নি যখন সেই বিবৃতি (পাকিস্তানে মৃত্যুর জন্য কলম্বিয়ার শোকবার্তা) দেওয়া হয়েছিল। আমরা চাই, পৃথিবীর অন্য সরকারগুলো যারা জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়, তাদের যেন সেই কাজ বন্ধ করতে বলা হয়। এটা নিরাপত্তা পরিষদে হোক বা তার বাইরেই।”
তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নিয়ে থারুর
ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা নিয়ে জল্পনা প্রসঙ্গে শশী থারুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে কোনো রকম ‘ফর্মাল মিডিয়েশন’ হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরবের উচ্চপদস্থ কর্তাদের থেকে ফোন পেয়েছি। আমরা সবার কাছে এক কথাই বলেছি—আমরা যুদ্ধ চাই না। এটা সন্ত্রাসবাদের প্রতিশোধ ছিল। তারা থামলে আমরাও থামব।”
থারুর আরও জানান, “৭ই মে রাতে যখন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়, তখন থেকেই আমাদের কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা এই সংঘাতে প্রথমে আক্রমণকারী পক্ষ নই।”
বর্তমানে শশী থারুর গায়ানা, পানামা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল এবং আমেরিকা সফর করছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য—পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার প্রমাণ তুলে ধরা, ৯/১১ হামলার সঙ্গে যোগসূত্রসহ, এবং বোঝানো যে এই সাম্প্রতিক সংঘাত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জন্য নয়, বরং পহেলগাঁয়ের জঙ্গি হামলাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।