নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শিক্ষা! বেসরকারি নিয়োগে নেতাদের খবরদারি দেখলেই এবার বড় পদক্ষেপ, স্পষ্ট বার্তা তৃণমূলের

রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের আবহে তৃণমূল কংগ্রেস এবার বেসরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নেতাদের খবরদারি বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুধু সরকারি ক্ষেত্রেই নয়, বেসরকারি ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের এই বার্তা শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে সমস্ত স্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের এই নতুন নীতি বিশেষত রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যেখানে শিল্প সংস্থাগুলির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতাদের অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও দুর্গাপুর ও হলদিয়া নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন এবং সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছিলেন। খোদ শ্রমিক সংগঠন, INTUC-এর রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই দুই শিল্পাঞ্চলের কোর কমিটির মাথায় বসানো হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিল্পাঞ্চলে নেতারা নিজেদের পছন্দের লোক ঢোকাতে চেষ্টা করেন, যা মালিকপক্ষের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং শিল্পের পরিবেশের ক্ষতি করে। শাসকদল এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে শিল্পাঞ্চলের একটি আসনেও জয় লাভ করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর থেকে দক্ষিণ, হলদিয়া, দুর্গাপুর পশ্চিম, আসানসোল দক্ষিণ, কুলটি, রঘুনাথপুর, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি সহ সবকটি শিল্পাঞ্চলীয় আসনে পরাজয় হয়েছিল। একমাত্র দুর্গাপুর পূর্ব থেকে জেতেন প্রদীপ মজুমদার, যা আংশিকভাবে শিল্পাঞ্চলের অন্তর্গত। এই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেদিকে শাসক দলের বিশেষ নজর রয়েছে।

ইতিমধ্যেই একাধিক সিনার্জি লেভেলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, শিল্পের কাজে কোনো ধরনের নাক গলানো চলবে না। শিল্প সংস্থাগুলো নিজেদের স্বাধীনতায় কাজ করবে। INTUC সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোনো নেতা নিয়োগের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দুই শিল্পতালুক হলদিয়া ও দুর্গাপুরে কোর কমিটি গঠন করেছেন এবং সেখানে INTUC রাজ্য সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সব জায়গা থেকে নানা অভিযোগ আসছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কেউ যদি সুপারিশ করতে যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলি রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে তৃণমূল সরকারের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।