“হাজার হাজার শিক্ষকের জীবন বরবাদ করেছে”-আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে TMC কে হুঁশিয়ারি মোদির

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে তাঁর জনসভা আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক ভিন্ন রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সভাকে ঘিরে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা সরব হয়েছে।
আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে মোদীর বক্তব্য: তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ
আলিপুরদুয়ারের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই বাংলায় বলেন, “নমস্কার, বড়রা আমার প্রমাণ নেবেন, ছোটরা ভালবাসা।” এরপরই তিনি সরাসরি রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করেন:
- শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে: “হাজার হাজার শিক্ষকের জীবন বরবাদ করেছে তৃণমূল সরকার, গোটা বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা বরবাদ করেছে।”
- নারীর সুরক্ষা নিয়ে: “বাংলায় মা-বোনেদের সুরক্ষা নেই, জঘন্য অপরাধ হচ্ছে।”
- সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে: “মুর্শিদাবাদ-মালদায় যা হয়েছে, এখানকার সরকারের নির্মমতারই উদাহরণ।”
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বিজেপি সরকার সততার সঙ্গে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্রে বাংলার উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। তিনি বাংলাকে ‘মেক ইন্ডিয়ার’ একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চান এবং ‘বিকশিত ভারতের’ জন্য বাংলাকেও বিকশিত হতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
সুকান্ত মজুমদারের হুঙ্কার: “বঙ্গোপসাগরে ফেলব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে”
প্রধানমন্ত্রীর আগে মঞ্চে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “মোদী সরকার আসার পর উত্তরবঙ্গের মানুষকে মানুষ বলে মনে করা হয়েছে।” তাঁর বক্তব্যে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “বঙ্গে বিজয়ের রথযাত্রা আজ আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু হল। ছাব্বিশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে বঙ্গোপসাগরে ফেলব।” এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং তাঁর ও সুকান্ত মজুমদারের কড়া বক্তব্যগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে তাদের রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র করবে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং আসন্ন দিনগুলিতে এই রাজনৈতিক বাগ্যুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।