“৬ থেকে ৭ বার পাকিস্তান ভ্রমণ”-জ্যোতির পর এ বার নজরে সরকারি চাকুরিজীবী

ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা এবং গুজরাটের স্বাস্থ্যকর্মী সহদেব সিংয়ের পর এবার পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে চরবৃত্তির সন্দেহে রাজস্থানের এক সরকারি কর্মীকে গোয়েন্দারা আটক করেছেন। তাঁর নাম সাকুর খান মাঙ্গালিয়া, যিনি জয়সলমীরে একটি সরকারি দপ্তরে কর্মরত এবং সেই জেলারই বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি এমপ্লয়মেন্ট অফিসে কাজ করছেন।
ঘটনার চাঞ্চল্যকর দিক হলো, সাকুর খান মাঙ্গালিয়া একসময় কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতার প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সময় তিনি জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে করছেন।
বুধবার রাজস্থান সিআইডি এবং জয়পুরের ইন্টেলিজেন্সের স্পেশাল টিম তাঁকে আটক করে। বেশ কিছুদিন ধরে গোয়েন্দা সংস্থা তাঁর ওপর নজর রাখছিল। পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানান, এই সরকারি কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তিনি আইএসআই-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন।
জানা গেছে, সাকুর খান মাঙ্গালিয়া আগে প্রাক্তন কংগ্রেস মন্ত্রী শালে মোহাম্মদের আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করতেন এবং তাঁরা একই গ্রামের বাসিন্দা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সাকুরের মোবাইল ফোনে পাকিস্তানের একাধিক বাসিন্দার ফোন নম্বর পাওয়া গেছে, যার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেছেন যে, অতীতে তিনি ছয় থেকে সাতবার পাকিস্তানে গিয়েছিলেন।
তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর ফোনে কোনো সেনা সংক্রান্ত ভিডিও বা গোপন তথ্য মেলেনি বলে জানা গেছে। তবে সূত্রের খবর, মোবাইলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিলিট করা হয়েছে। সাকুরের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে একটি বর্তমানে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।
জ্যোতি মালহোত্রা ও সহদেব সিংয়ের গ্রেপ্তারের পর এই নতুন গ্রেপ্তার আইএসআই-এর ক্রমবর্ধমান গুপ্তচরবৃত্তির নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং দেশের সংবেদনশীল তথ্য পাচার রোধে জোরদার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।