অপারেশন সিঁদুরের সময় কন্ট্রোল রুমেই বসেছিল! ফের গুপ্তচর সন্দেহে আটক এক, পেশায় সরকারি কর্মী

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থার জাল বিস্তার করছে, এমন আশঙ্কার মধ্যেই ফের এক সরকারি কর্মীকে গুপ্তচর সন্দেহে আটক করা হয়েছে। রাজস্থান সিআইডি এবং গোয়েন্দা বাহিনী আজ জয়পুর থেকে সাকুর খান মাঙ্গালিয়া নামক এই ব্যক্তিকে আটক করেছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জয়সালমীরে সরকারি দফতরে কাজ করা সাকুর খান মাঙ্গালিয়া এক কংগ্রেস নেতার সহকারী হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সময় জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে সাকুর উপস্থিত ছিলেন। গোয়েন্দারা খবর পেয়েছিলেন যে, সাকুরের পাকিস্তানের দূতাবাসের একজন কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং সম্ভবত আইএসআই-এর সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কিছুদিন ধরে তার গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল এবং আজ তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাকুর রাজস্থানের প্রাক্তন মন্ত্রী শালে মহম্মদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবেও কাজ করতেন। তার ফোনে একাধিক পাকিস্তানি নম্বর পাওয়া গেছে, যার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। যদিও, তার কাছ থেকে কোনো সামরিক বা গোপনীয় তথ্য উদ্ধার হয়নি বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ার আগেই অভিযুক্ত তার ব্যাঙ্কের ডিটেইলস মুছে ফেলেছিল। জেরায় সাকুর স্বীকার করেছে যে সে ৬-৭ বার পাকিস্তানেও গিয়েছিল। তার এই ঘন ঘন পাকিস্তান সফর এবং পাকিস্তানি নম্বরের সাথে যোগাযোগ সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে।

এই আটকের ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশের নিরাপত্তার জন্য গুপ্তচরদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করা কতটা জরুরি। সাকুরের আটকের পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পাক গুপ্তচরদের নেটওয়ার্ক উন্মোচনের জন্য আরও নিবিড় তদন্ত প্রয়োজন।