SSCর হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করার কে? প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) প্রায় ৪৪ হাজার শূন্যপদে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বলে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন চাকরিহারারা এই ঘোষণাকে তাঁদের “মৃত্যুপরোয়ানা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর এই সাংবাদিক বৈঠক করার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ৩০ মে-র মধ্যে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে এবং ১৪ জুন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ১৫ নভেম্বর প্যানেল প্রকাশ করা হবে এবং ২০ নভেম্বর থেকে কাউন্সেলিং শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, আদালতের নির্দেশে প্যানেল খারিজের ফলে যে ২৪,২০০ শূন্যপদ তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে আরও প্রায় ২০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে, অর্থাৎ মোট প্রায় ৪৪ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ হবে।

তবে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই চাকরিহারাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, নতুন করে পরীক্ষা দিতে হলে তাঁদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য আবার একই রকম প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যা তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তাঁরা এই ঘোষণাকে নিজেদের “মৃত্যুপরোয়ানা” হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপির তেরঙ্গা যাত্রায় অংশগ্রহণ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর এই সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। শুভেন্দুবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক আসলে অশ্বত্থমা হত, ইতি গজ। সুপ্রিম কোর্ট তো SSCকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সেকথা ঘোষণা করলেন কেন? SSC একটি স্বশাসিত সংস্থা। মুখ্যমন্ত্রী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এটা বেআইনি। আমি এর বিরুদ্ধে আদালতে যাব।”

মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাঁর ঘোষণায় চাকরিহারাদের প্রতি মানবিকতার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, চাকরিহারাদের বয়সের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও, তাঁদের অভিজ্ঞতার জন্য বাড়তি নম্বর দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও সরকার ভাবনাচিন্তা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী এও জানান যে, যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট যাদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, তাদের জন্য শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন অশিক্ষক পদ বা অন্যান্য কয়েকটি সরকারি দপ্তরে কাজের বিকল্প সুযোগ তৈরির কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে আলাদা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।