রাস্তায় মেয়ে দেখলেই টিটকিরি মারার স্বভাব, সেই আজগরকেই ‘উচিত শিক্ষা’ দিল স্থানীয় বাসিন্দারা

মুর্শিদাবাদের নওদাপাড়া ওলাপুর এলাকায় এক যুবককে নাবালিকা ও মহিলাদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে গাছের সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। অভিযুক্ত আজগর আলীকে দীর্ঘদিনের এমন আচরণের জন্য বহুবার সতর্ক করা হলেও তিনি নিজের স্বভাব পরিবর্তন করেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আজগর আলি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মেয়ে-বউ এবং রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী মহিলা ও নাবালিকাদের উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। তাঁর পরিবারকেও বহুবার বিষয়টি জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। বরং, আজগর আলি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। সম্প্রতি, ফের কয়েকজন নাবালিকাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠলে এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই ক্ষিপ্ত জনতা আজগর আলীকে ধরে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে এবং তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এই ঘটনা দেখে অনেকে মনে করছেন, এরপর হয়তো কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার আগে অভিযুক্ত দু’বার ভাববে।
খবর পেয়ে ভগবানগোলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আজগর আলীকে জনতার রোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় সাময়িক স্বস্তি এলেও, উত্তেজনা এখনও কাটেনি।
এলাকাবাসীদের আরও অভিযোগ, এর আগেও আজগর আলি নিজের বৌদিকে মানসিকভাবে এতটাই নির্যাতন করতেন যে শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। তা সত্ত্বেও অভিযুক্তের পরিবার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়ে পড়তে যেত। সেই সময় ও আমার মেয়েকে খারাপ খারাপ কথা বলত। এরপর বলত তোকে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেব। ও ওর বৌদিকেও জ্বালাতন করত। তারপরও পরিবারের লোকজন কেন বিয়ে দেয় না কে জানে?”