দেশে করোনার নয়া সাব-ভ্যারিয়্যান্ট, জেনেনিন বাংলার কী অবস্থা? কি বলছে বিশেষজ্ঞরা?

দেশে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে, যা জনমনে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন যে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এরই মধ্যে একটি নতুন তথ্য সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান সার্স-কোভি-২ জিনোমিক্স কনসোর্টিয়াম’ (INSACOG)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনার দুটি নতুন উপপ্রজাতির (সাব-ভ্যারিয়্যান্ট) হদিশ মিলেছে। এই দুটি সাব-ভ্যারিয়্যান্ট হলো NB.1.8.1 এবং LF.7। গত এপ্রিল মাসে তামিলনাড়ুতে একজনের শরীরে NB.1.8.1 সাব-ভ্যারিয়্যান্ট ধরা পড়েছিল এবং মে মাসে গুজরাটে চারজনের শরীরে LF.7 সাব-ভ্যারিয়্যান্ট পাওয়া গিয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে যে, এই দুই সাব-ভ্যারিয়্যান্ট NB.1.8.1 এবং LF.7-এর উপর নজরদারি করা হচ্ছে। তবে এখনই এই উপপ্রজাতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে হু জানিয়েছে। যদিও জানা গিয়েছে, চিন এবং এশিয়ার কিছু অংশে কোভিডের ঘটনা বাড়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী এই দুটি ভ্যারিয়্যান্ট।
হু আরও জানিয়েছে যে, NB.1.8.1 উপপ্রজাতি খুব একটি বিপজ্জনক নয়। ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনার JN.1 ভ্যারিয়্যান্টে আক্রান্ত হয়েছেন সবথেকে বেশি মানুষ। এছাড়াও আক্রান্তদের মধ্যে BA.2 এবং ওমিক্রনের অন্যান্য সাব-ভ্যারিয়্যান্টও দেখা গিয়েছে। গত ১৯শে মে দেশে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৫৭। সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়, যেখানে ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এবং আইসিএমআর-এর বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে নতুন করে ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও, গত ২০ দিনে বেঙ্গালুরুতে নয় মাসের এক শিশুর করোনা ধরা পড়েছে। মে মাসে শুধুমাত্র কেরালাতেই ২৭২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি সরকার শহরের সমস্ত হাসপাতালগুলিকে অক্সিজেন, বেড, ওষুধ, ভ্যাকসিন-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা অযথা উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন। তাঁদের কথায়, কোভিডের ভ্যাকসিন বহু মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার কৌশল শিখে গিয়েছে। তবে গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরার বিষয়ে তাঁরা বিশেষ করে সচেতন থাকতে বলছেন।
কলকাতার বেসরকারি সূত্রে খবর, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০ ছাড়িয়েছে। এখনও কলকাতার বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ৬-৭ জন রোগী ভর্তি আছেন, যাঁদের শরীরে কোভিডের উপসর্গ রয়েছে। এঁদের বেশিরভাগই অন্য অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এবং কোভিড টেস্টে তাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। যদিও সরকারিভাবে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
সামগ্রিকভাবে, নতুন উপপ্রজাতিগুলি নিয়ে নজরদারি চললেও, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।