টানা বৃষ্টিতে জলের তোড়ে ভেসে গেল কাঁচা রাস্তা! মাথায় হাত দ্বারকেশ্বর পাড়ের বাসিন্দাদের

ভরা বর্ষার মরশুম এখনও আসেনি, তবে গত কয়েকদিনের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতেই বাঁকুড়া জেলার দ্বারকেশ্বর নদের অস্থায়ী পথ সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এর ফলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কেউ একবুক জল ভেঙে নদ পেরোচ্ছেন, আবার কেউ প্রায় ৮ কিলোমিটার ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকৃতির রোষে ভেসে গেল অস্থায়ী সড়ক:
ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গেছে, গত তিন-চারদিন ধরে বিকেলের দিকে বাঁকুড়ায় বৃষ্টি নামছে। এই সামান্য বৃষ্টিতেই দ্বারকেশ্বর নদের জল কিছুটা বেড়েছে। সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে নদের উপরে প্রকাশ ঘাটে তৈরি করা একটি অস্থায়ী রাস্তা নিয়ে। মূলত মাটি ও বালির বস্তা দিয়ে এই পথ তৈরি করা হয়েছিল নদ পেরোনোর জন্য। কিন্তু, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদের জল বাড়তেই সেই মাটি ও বালির বস্তা ভেসে গেছে। এর ফলে, বুধবার সকালেও যারা এই পথ ধরে কাজে গিয়েছিলেন, দিন শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা আর কোনও রাস্তা দেখতে পাননি।
দীর্ঘদিনের সমস্যা, প্রশাসনের উদাসীনতা:
স্থানীয় ইন্দাস ও পাত্রসায়র ব্লকের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই বৃষ্টি বাড়লেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে শুখা মরসুমে ফের একইভাবে অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়, কিন্তু একটি স্থায়ী পাকা রাস্তা বা সেতু নির্মাণের কোনো বন্দোবস্ত করা হয় না। অথচ, এই দ্বারকেশ্বর নদ পেরিয়েই এলাকার বাসিন্দাদের প্রধানত বিষ্ণুপুর পৌঁছতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রতিদিনের কাজে বের হওয়া সকল শ্রেণির মানুষজন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু, বৃষ্টি বাড়লেই যে তাঁদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়, সেদিকে প্রশাসনের কোনো হুঁশ নেই বলে অভিযোগ তাদের। এই দুর্ভোগ থেকে কবে মুক্তি মিলবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।