“মা, আমি চুরি করিনি”-খাতায় লিখে আত্মহত্যার চেষ্টা সপ্তম শ্রেণির এক পড়ুয়ার, জেনেনিন বিস্তারিত

চিপসের প্যাকেট ‘চুরি’র অভিযোগ এবং তার জেরে মায়ের হাতে সবার সামনে মার খাওয়ার অপমানে আগাছানাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করল সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র। বর্তমানে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বিষ পানের আগে খাতার পাতায় সে লিখে গেছে, “মা আমি চুরি করিনি।”

রবিবার বিকেলে পাঁশকুড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। শুভঙ্কর দীক্ষিত নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির মিষ্টির দোকান রয়েছে, যেখানে তিনি চিপস, চকলেটও বিক্রি করেন। ঘটনার দিন বিকেলে শুভঙ্কর দোকানেই ছিলেন, কিন্তু কোনো কাজের জন্য হঠাৎ দোকানের পিছনে চলে যান।

দোকান মালিক শুভঙ্করের দাবি, সেই সময় হাওয়ায় কয়েকটি চিপসের প্যাকেট মাটিতে পড়ে যায়। ফিরে এসে তিনি দেখেন, ছেলেটি কয়েকটি চিপসের প্যাকেট নিয়ে দ্রুত সাইকেল চালিয়ে চলে যাচ্ছে। শুভঙ্কর বাইক নিয়ে পিছু ধাওয়া করে ছেলেটির কাছে পৌঁছান। তার দাবি, জেরার মুখে ছেলেটি চুরির কথা স্বীকার করে নেয় এবং তিনটি চিপসের প্যাকেটের দাম বাবদ একটি কুড়ি টাকার নোট দেয়। শুভঙ্কর ছেলেটিকে দোকানে এসে পাঁচ টাকা ফেরত নিয়ে যেতে বলেন।

প্রকাশ্যে মারধর ও মর্মান্তিক পরিণতি
শুভঙ্করের কথা লোকমুখে চাউর হতেই কিছুক্ষণ পরে ছেলের মা তাকে নিয়ে দোকানে হাজির হন। বাজারে সবার সামনে ছেলেকে মারধর করেন তিনি। এই অপমান সহ্য করতে না পেরেই সদ্য বয়ঃসন্ধিতে পা রাখা ওই ছাত্রটি বাড়ি ফিরে চাষের কাজের জন্য রাখা আগাছানাশক খেয়ে ফেলে।

বিষ পানের আগে খাতার পাতায় সে লিখেছিল, “মা আমি বলে যাচ্ছি যে, চিপসের প্যাকেট রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। চুরি করিনি।”

বিষয়টি জানতে পেরে তড়িঘড়ি তাকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই ছাত্রের অবস্থা সঙ্কটজনক। এই ঘটনার পরে হতবাক শুভঙ্করও।

দোকান মালিকের প্রতিক্রিয়া
শুভঙ্কর দীক্ষিত বলেন, “ছেলেটি ভুল স্বীকার করে চিপসের টাকাও দেয়। কোনো একজনের মুখে ঘটনার কথা শুনে ওর মা দোকানে নিয়ে এসে সবার সামনে শাসন করেন। আমি মারধর করতে বাধা দিই। ঘটনাটি শোনার পরে খুব খারাপ লাগছে। ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসুক, এটাই চাই।”

এই ঘটনা পাঁশকুড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি ছোট ভুল বা ভুল বোঝাবুঝির জেরে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কতটা কাম্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।