‘বাড়াবাড়ি’ করলে তার পরিণাম ভুগতেই হবে! ইউনূসের মন্তব্যের পর বাংলাদেশ নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লির

‘চোখের বদলে চোখ’— দিল্লির সঙ্গে ‘বাড়াবাড়ি’ করলে যে তার পরিণাম ভুগতে হতে পারে, তা ফের স্পষ্ট করে দিল নয়াদিল্লি। বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে আমদানি করা যাবে না বলে নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রকের অধীনস্থ বৈদেশিক বাণিজ্য দফতর (ডিজিএফটি)। শনিবার এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ নিয়ে করা মন্তব্যেরই পরিণাম ভুগতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
ডিজিএফটি-র তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি বেশ কিছু পণ্য যেমন রেডিমেড পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ভারতের কোনও স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, এবং বাংলার চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ির মতো শুল্ককেন্দ্র অথবা চেক পোস্ট দিয়ে এই ধরনের পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ফল, তুলা, প্লাস্টিক, পিভিসি পণ্য ও কাঠের আসবাবপত্র-সহ অন্যান্য বেশ কিছু জিনিসপত্রের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে।
যদিও নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কলকাতা কিংবা মুম্বইয়ের মতো সমুদ্রবন্দর হয়ে ওই পণ্যগুলি প্রবেশের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবছর এই সময়কালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আসে। এই নতুন নিয়মে কি তাতে প্রভাব পড়বে? কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, মাছ (ইলিশ সহ), এলপিজি গ্যাস ও ভোজ্যতেল— এই তিন পণ্যকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এই পণ্যগুলির আমদানি স্বাভাবিক থাকবে।
কিন্তু হঠাৎ করেই কেন এমন বিধিনিষেধ চাপাল নয়াদিল্লি? ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, চিনে বসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ নিয়ে করা মন্তব্যেরই পরিণাম ভুগতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি মেনেই ভারত এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও গত মাসের মাঝামাঝি দিকে বাংলাদেশের জন্য চালু করা ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবস্থা পেট্রাপোল হয়ে বন্ধ করে দেয় ভারত, যার জেরে ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগে। সেই ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নির্দিষ্ট পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে আবার ‘কাঁটা ফেলল’ নয়াদিল্লি।
তবে নেপাল কিংবা ভূটান পণ্যে রফতানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসুবিধায় পড়তে হবে না বলেও বৈদেশিক বাণিজ্যিক দফতর সূত্রে খবর। সামগ্রিকভাবে, এই নতুন নির্দেশিকা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্যকে প্রভাবিত করবে, যদিও সমুদ্রবন্দর এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক বার্তাই প্রধান বলে মনে করা হচ্ছে।