চাকরি অনিশ্চিত! ফুটপাতে বসে ছাত্রছাত্রীদের খাতা দেখলেন পূর্ব বর্ধমানের শিক্ষিকা

একদিকে নিজের ‘হকের চাকরি’ বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে পড়ুয়াদের প্রতি কর্তব্যবোধ। এই দুইয়ের মাঝে পড়ে এক কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পূর্ব বর্ধমানের এক শিক্ষিকা। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে তার চাকরি এখন অনিশ্চিত। তবুও সেই লড়াইয়ের ময়দান থেকেই তিনি পালন করছেন শিক্ষকের দায়িত্ব। চোখে জল নিয়েই ফুটপাতে বসে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার খাতা দেখতে দেখা গেল তাকে।
জানা গেছে, রাজ্যজুড়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির কারণে বহু শিক্ষকের চাকরি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বহু শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ঝুঁকিতে রয়েছে। নিজেদের অধিকার ও চাকরি বাঁচাতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন। এই শিক্ষিকাও সেই আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশ।
এই পরিস্থিতিতেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার খাতা দেখার গুরুদায়িত্ব তার কাঁধে। গরমের ছুটির পরই স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাতা দেখে নম্বর জমা দিতে হবে। নিজের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং নিরন্তর লড়াইয়ের চাপ তার চোখে জল এনে দিলেও, তিনি কর্তব্য থেকে এক চুলও সরেননি।
শিক্ষিকা সংবাদমাধ্যমকে জানান, একদিকে তাকে নিজের চাকরি বাঁচাতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে, অন্যদিকে পড়ুয়াদের প্রতিও তার দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি জানেন না তার চাকরি শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না, কিন্তু তিনি প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন যে, আদালত থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যাওয়ার আইনি অনুমতি তার রয়েছে। তাই যতদিন সম্ভব, তিনি ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিজের কাজ করে যেতে চান। আন্দোলন তাঁকে চালিয়ে যেতে হবে, খাতাগুলিও সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে – এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারসাম্য রাখতেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।
আর তাই, নিজের লড়াইয়ের ময়দান অর্থাৎ ফুটপাতে বসেই তাকে মন দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে। এই দৃশ্য একদিকে যেমন শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অটল প্রতিবাদের প্রতীক, তেমনই এটি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রতি একজন শিক্ষিকার অটুট ভালোবাসারও নিদর্শন। তার এই কাজ একইসঙ্গে অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে এবং সহানুভূতি জাগিয়েছে।