“১০ জনকেই মেরে দিয়েছে ভারত”-মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি মাসুদ আজহারের পরিবার শেষ!

পহেলগাঁও হামলার তীব্র এবং সুনির্দিষ্ট পাল্টা জবাব দিতে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই অভিযানে জৈশ-ই-মহম্মদের শক্ত ঘাঁটি বাহাওয়ালপুর এবং লস্কর-ই-তইবার মুরিদকে সহ একাধিক লঞ্চপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই হামলায় জৈশ প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা মাসুদ আজহারের পরিবারের অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর খবর নাকি স্বয়ং মাসুদ আজহারই স্বীকার করেছেন।

সূত্র অনুযায়ী, বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের শক্ত ঘাঁটিতে চালানো হামলায় মাসুদ আজহারের পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষভাবে সুবহান-উল-আল্লাহ জামে মসজিদে চালানো হামলায় তার পরিবারের ১০ জন সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়াও আজহারের চারজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও এই হামলায় নিহত হয়েছে বলে খবর। নিহতদের মধ্যে রয়েছে মাসুদ আজহারের বড় বোন এবং তার স্বামী। এছাড়াও নিহত হয়েছেন মাসুদ আজহারের এক ভাগ্নে এবং তার স্ত্রী, আজহারের আরও এক ভাগ্নী এবং পরিবারের পাঁচজন শিশু। একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে হামলায় মাসুদ আজহারের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার মা, আরও দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিহত হয়েছে।

ভারতের হামলায় পরিবারের এতজন সদস্যের প্রাণহানির খবর স্বীকার করে মাসুজ আজহার নাকি বলেছেন, “আমিও মরে গেলে ভাল হত।” তার এই মন্তব্য শোক এবং হতাশার ইঙ্গিত বহন করে এবং প্রমাণ করে যে এই হামলা আজহারের ব্যক্তিগত জীবনেও চরম আঘাত হেনেছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে বর্বরোচিত জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিককে বেছে বেছে গুলি করে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। এই ঘটনার ঠিক দু সপ্তাহ পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অধীনে পাকিস্তানে সামরিক হামলা চালিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই এই অপারেশনের নাম দিয়েছেন ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে পহেলগাঁও হামলায় যুক্ত জঙ্গি ও তাদের সাহায্যকারীদের রেহাই দেওয়া হবে না।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW বিমান হামলার জন্য সমস্ত টার্গেট চিহ্নিত করেছিল, যার পরেই লস্কর এবং জইশ ঘাঁটিগুলিতে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ করা হয়েছিল। এই সামরিক অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি সন্ত্রাসবাদী আস্তানায় হামলা চালিয়েছে। এই অপারেশনটি মঙ্গলবার গভীর রাতে, রাত ১.৩০ টার দিকে করা হয়েছিল। বাহাওয়ালপুর, কোটলি এবং মুজাফ্ফরাবাদে হামলা চালানো হয়েছিল। ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছিলেন। এই হামলাটি বৈসরন উপত্যকায় করা হয়েছিল, যেখানে জঙ্গিরা বেছে বেছে নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিল। নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক এবং একজন ছিলেন নেপালি নাগরিক।

মাসুদ আজহারের পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার খবরটি যদি সত্যি হয়, তবে এটি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল। এটি প্রমাণ করে যে ভারত কেবল প্রতীকী নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্রগুলিতে এবং তার প্রধান ব্যক্তিদের উপরেও আঘাত হানতে সক্ষম। এই ঘটনা পাকিস্তানের ভিতরে জঙ্গি সংগঠনগুলির মনোবল ভেঙে দিতে পারে এবং আজহারের মতো শীর্ষ নেতাদের উপরেও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এটি ভারতের সামরিক এবং কৌশলগত সাফল্যের এক উল্লেখযোগ্য দিক।