শিক্ষাকর্মীদের পক্ষে বড় নির্দেশ উচ্চ আদালতের! ভুলের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের

একদিকে যখন হাজার হাজার চাকরি বাতিল নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোড়ন চলছে, তখনই আইনের পথে দীর্ঘ লড়াই শেষে কিছুটা স্বস্তি পেলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষাকর্মী। কর্তৃপক্ষের একটি প্রশাসনিক ভুলের কারণে প্রায় ৬ বছর ধরে নিজেদের ন্যায্য সিনিয়রিটি হারিয়ে জুনিয়র হয়ে গিয়েছিলেন কর্মীদের একটি অংশ। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তাঁদের সেই হারানো সিনিয়রিটি ফিরে এল। এই রায়ের ফলেAffected কর্মীদের মুখে ফুটেছে হাসি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই বছর ৩৯ জন কর্মচারীকে প্রোমোশন বা পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখানেই হয় বড়সড় বিপত্তি। কর্তৃপক্ষ এই পদোন্নতিকে ২০১৯ সাল থেকে কার্যকর না করে, পিছিয়ে ২০১৫ সাল থেকে রেট্রোস্পেক্টিভ এফেক্ট বা পূর্ববর্তী তারিখ থেকে কার্যকর করার নির্দেশ জারি করে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়। যেসব সিনিয়র শিক্ষাকর্মী ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল অবধি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং স্বাভাবিক পদোন্নতিক্রমে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে জুনিয়র সুপার পদে উন্নীত হয়েছিলেন, তাঁরা বিপাকে পড়েন। তাঁদের থেকে অনেক পরে, অর্থাৎ ১৯৯৮ এবং ২০০০ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মচারীরা ২০১৫ সাল থেকে জুনিয়র সুপার পদে উন্নীত হয়ে যান রেট্রোস্পেক্টিভ এফেক্টের কারণে। ফলস্বরূপ, পুরোনো সিনিয়র কর্মীরা তাঁদের থেকে জুনিয়র কর্মীদের দ্বারা টপকে যান এবং কার্যত তাঁদের সিনিয়রিটি হারান। পরবর্তীকালে পদোন্নতিক্রমে এই জুনিয়র কর্মীরাই ২০২০ সালে সিনিয়র সুপার পদেও আসীন হন, যা বঞ্চনা আরও বাড়িয়ে তোলে।

কর্তৃপক্ষের এমন প্রশাসনিক ভুলের প্রতিবাদে এবং হারানো সিনিয়রিটি ফিরে পেতে ভুক্তভোগী শিক্ষাকর্মীরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে মামলাটি উঠলে শুনানির সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেয়।

আদালতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে অঙ্গীকার করে যে, কর্তৃপক্ষের এই ভুলের কারণে যে সকল কর্মী সিনিয়রিটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সমস্ত বকেয়া আর্থিক পাওনা সহ ২০১৫ সাল থেকে জুনিয়র সুপার এবং ২০২০ সাল থেকে সিনিয়র সুপার পদে উন্নীত করা হবে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাস কর্তৃপক্ষের এই অঙ্গীকারকে নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করেন।

কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা একটি অন্যায় এবং বঞ্চনার অবসান ঘটল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুনিয়র হয়ে যাওয়া শিক্ষাকর্মীদের সেই অংশটি পুনরায় তাঁদের ন্যায্য সিনিয়রিটি ফিরে পেলেন। এই বিষয়ে মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় এই রায়কে ‘সরকারি কর্মী ও সরকার পোষিত সংস্থার কর্মীদের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই রায়ের পর Affected কর্মীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে এবং তাঁরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যখন রাজ্যের শিক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেই আবহেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ভুলের নিরসন করে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় কর্মীদের অধিকার রক্ষায় বিচার ব্যবস্থার সক্রিয় ভূমিকার কথা আবারও প্রমাণ করল।