রাত জেগে হামলার আপডেট নেন নরেন্দ্র মোদি, সেনাপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেন দফায় দফায়

কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার যোগ্য জবাব দিতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত এই সামরিক পদক্ষেপ বুধবার ভোররাতে (মঙ্গলবার গভীর রাতে) সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় পাকিস্তানের ছয়টি শহর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয় এবং অন্তত ৮ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের মোট ৯টি নির্দিষ্ট জায়গায় জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে এই ‘স্ট্রাইক’ বা হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা ছিল পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া, যেখানে বেছে বেছে নিরীহ পর্যটকদের নিশানা করা হয়েছিল।

ভারতের চালানো এই গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল হামলার দিকে রাত জেগে নিবিড় নজর রেখেছেন স্বয়ং দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে যখন অভিযান শুরু হয়, তখন থেকেই তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে গেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজit দোভাল। শুধু তাই নয়, ভোর পর্যন্ত ভারতের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফায় গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এই আলোচনাগুলোতে অভিযানের অগ্রগতি, কৌশল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন নিবিড় পর্যবেক্ষণ এই অভিযানের গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত আপসহীন এবং প্রয়োজনে শত্রুর ডেরায় ঢুকেও জবাব দিতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাত জেগে পুরো অপারেশন পর্যবেক্ষণ করা প্রমাণ করে যে সরকার জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে কতটা গুরুতর।