গ্রিন সিগন্যাল দেন খোদ মোদী! পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি উড়িয়ে দিল ভারত, কেন ‘সিঁদুর’ রাখা হল নাম?

‘মারের বদলা পাল্টা মার’। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার পর আসমুদ্র হিমাচল জুড়ে ফুঁসে ওঠা দেশবাসীর এটাই ছিল একমাত্র দাবি। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সেই আকাঙ্ক্ষারই পূরণ ঘটাল ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) নামে এক অতর্কিত সামরিক অভিযানে শত্রু পাকিস্তানের (Pakistan) ভেতরে ঢুকে একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই এয়ার স্ট্রাইকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পহেলগাঁও হামলার ঠিক ১৫ দিনের মাথায় পাকিস্তানে এই প্রত্যাঘাত করল ভারত।
জানা গেছে, এই অভিযানের নাম ‘অপারেশন সিঁদুর’ রাখার পেছনে এক গভীর এবং মর্মান্তিক তাৎপর্য রয়েছে, এবং এই নামে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সায় দিয়েছিলেন। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গিরা যে পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল, তা ছিল ধর্ম যাচাই করে গুলি করার মতো ঘটনা। জঙ্গিরা সেখানে নিরীহ পর্যটকদের ধর্মপরিচয় জিজ্ঞাসা করে বেছে বেছে হিন্দুদের নিধন করেছিল। স্ত্রীর সিঁথিতে সিঁদুর এবং হাতে চুড়ি দেখার পর অনেক স্বামীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁদেরই চোখের সামনে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্ত্রীদের সামনেই তাঁদের স্বামীকে খুন হতে হয়। হিন্দু মহিলাদের বিবাহের চিহ্ন এই লালরঙা সিঁদুরই যেন জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
এই হামলার নিহতদের মধ্যে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামীহারা হয়েছেন অনেকে। সদ্যবিধবা মহিলাদের করুণ ছবি সমাজমাধ্যম ছেয়ে গিয়েছিল, যা গোটা ভারতবাসীর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। হরিয়ানার নৌসেনা আধিকারিক বিনয় নওয়ালের স্ত্রী হিমাংশী নরওয়ালের উপত্যকার মাঝে স্বামীর নিথর দেহ আঁকড়ে বসে থাকার ছবিটি সেই মর্মান্তিক দৃশ্যের প্রতীক হয়ে আছে। পহেলগাঁওয়ের সেই সমস্ত ঘটনার জবাবি হামলা হিসেবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামটি তাই বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নামের মাধ্যমে নিহতদের এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সম্মান ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর মনোভাবকেই তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়ার পরে ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের ভেতরে ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ডেরায় আঘাত হানে। এক্স হ্যান্ডলে সেনা তরফে জানানো হয়েছে, পহেলগাঁও কাণ্ডের প্রত্যাঘাতে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি। প্রাথমিকভাবে ৯টি জঙ্গিঘাঁটি সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, আগেই ভারত জানিয়েছিল, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার জবাব ভারত নিজের পছন্দের সময়ে এবং পছন্দের স্থানেই পাকিস্তানকে দেবে। ঠিক সেটাই প্রমাণ করে মঙ্গলবার গভীর রাতে এই অভিযান চালানো হলো।
ভারতের এই প্রত্যাঘাতের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ভারতের হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে অভিহিত করেছেন। শাহবাজ় শরিফ বলেন, ‘ভারত কাপুরুষ, এটা কাপুরুষের মতো হামলা, যোগ্য জবাব দেব’। তিনি আরও বলেন, ভারতের এই হামলার পর চুপ থাকবে না পাকিস্তান এবং যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু একটি সফল সামরিক অভিযান নয়, এটি পহেলগাঁওয়ের বর্বরতার যোগ্য জবাব এবং নিহতদের প্রতি ভারতের গভীর শ্রদ্ধা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের অটল প্রতিশ্রুতির প্রতীক। এই অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে ভারতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানার চেষ্টা করলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।