ইডেনে বৈভবের ক্ষণিকের ঝলক, রাহানের অবিশ্বাস্য ক্যাচ মনে করালো কপিল দেবকে

মাত্র এক ইনিংসে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন তিনি। কেমন সেই জনপ্রিয়তা? ইডেন গার্ডেন্সে ঢোকার পথে রবিবার সেটাই টের পাওয়া গেল। মাঠমুখী বহু দর্শকের মুখেই তখন একই প্রার্থনা: বৈভব সূর্যবংশী যেন রান করেন, আর কলকাতা নাইট রাইডার্স যেন ম্যাচ জেতে।
শুনলে অবাক হতে হয় বটে! এই ধরনের আবদার তো সাধারণত বিরাট কোহলি বা মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো তারকাদের জন্য শোনা যায় যখন তাঁরা ইডেনে খেলতে আসেন। ক্রিকেটের এই নতুন বিস্ময়-কিশোর যেন এরই মধ্যে সেই সারিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। বিহারের ১৪ বছরের বৈভবকে নিয়ে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
যদিও বৈভবের জন্য রবিবার ইডেন যেন কিছুটা হতাশাজনকই ছিল। নাকি বৈভবই নিরাশ করলেন ইডেনের ক্রিকেট জনতাকে? রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে যখন তিনি কেকেআরের ২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামলেন, ইডেন তখন তার ব্যাটের ঝড় দেখার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু মাত্র ২ বলে ৪ রান করেই ফিরতে হলো এই বিস্ময়-কিশোরকে। রাজস্থানের ইনিংসের প্রথম ওভারেই বৈভবকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশা বিষণ্ণতায় পরিণত হলো।
কেকেআরের বোলার বৈভব অরোরা ফিরিয়ে দিলেন রাজস্থানের ব্যাটার বৈভবকে। তবে উইকেটটি যতটা না বৈভব অরোরার কৃতিত্ব, তার চেয়ে অনেক বেশি হয়তো কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের। মিড উইকেটে তিনি যে ক্যাচটি ধরলেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। মুহূর্তে মনে করিয়ে দিল কিংবদন্তি কপিল দেবকে।
রাজস্থানের বৈভবের বিরুদ্ধে যে শর্ট বলের কৌশল নেওয়া হবে, সে ইঙ্গিত কেকেআর শিবির থেকে আগেই পাওয়া গিয়েছিল। ম্যাচের আগের দিন রোভম্যান পাওয়েল জানিয়েছিলেন, তাঁরা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বৈভবের বিরুদ্ধে নেওয়া কৌশলকে মাথায় রাখছেন। উল্লেখ্য, এর আগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধেই দীপক চাহারের বলে কোনো রান না করেই আউট হয়েছিলেন বৈভব।
রবিবারও ফিরলেন বৈভব অরোরার একটি শর্ট বলে। প্রথম বলেই চার মেরে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন। কিন্তু পরের শর্ট বলটি পুল করতে গিয়ে বল ডিপ মিড উইকেটের দিকে উঠে যায়। মিড উইকেট থেকে প্রায় ১৫-১৭ গজ পিছনের দিকে দৌড়ে শরীর শূন্যে ভাসিয়ে বল তালুবন্দি করেন রাহানে। গত ম্যাচেই ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন রাহানে, যার জন্য রবিবার তার খেলা নিয়েই সংশয় ছিল। কিন্তু তিনি খেললেন এবং দুরন্ত এক ক্যাচ নিয়ে ফিল্ডিংয়ে নিজের জাত চেনালেন।
রাহানের এই ক্যাচ মনে করিয়ে দিল ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে কপিল দেবের ধরা ভিভ রিচার্ডসের সেই অবিশ্বাস্য ক্যাচকে। একই মিড উইকেট পজিশনে কপিলও প্রায় এভাবেই লাফিয়ে ক্যাচটি ধরেছিলেন, যা ক্রিকেটের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে এবং ভারতীয় ক্রিকেটের গতিপথ বদলে দিয়েছিল।