“ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার নয়, মাধ্যমিকে তৃতীয় ঈশানী হতে চায়…?”-জানালো মনের ইচ্ছের কথা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৫-এর প্রকাশিত ফলাফলে রাজ্যের মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে বাঁকুড়া জেলার নাম উজ্জ্বল করেছে কোতুলপুর সরোজবাসিনী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ঈশানী চক্রবর্তী। সে ৭০০ নম্বরের মধ্যে ৬৯৩ নম্বর পেয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এই অসাধারণ সাফল্যে ঈশানী যেমন খুশি, তেমনই কিছুটা অবাকও।
ঈশানী জানায়, ভালো রেজাল্ট হবে সে জানত, কারণ পরীক্ষা ভালোই হয়েছিল। কিন্তু মাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে একেবারে তৃতীয় স্থানে তার নাম থাকবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। তাই ফল দেখে ঈশানী নিজেও একটু হলেও চমকে উঠেছে।
নিজের পড়াশোনার পদ্ধতি সম্পর্কে ঈশানী জানিয়েছে, সে সারাদিন ধরে পড়ার চেয়ে সময় পেলেই মন দিয়ে পড়তে বসত। সকালে উঠে সে প্রথমেই ঠিক করত সেই দিন কোন কোন বিষয় পড়বে এবং সেই বিষয়গুলো পড়তে যতক্ষণ সময় লাগত, ততক্ষণই সে পড়ত। পড়াশোনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাঁধা ধরা সময় তার ছিল না, বরং লক্ষ পূরণের উপর জোর দিত। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে সে ভালোবাসে।
তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মা-বাবার বলে অকপটে জানিয়েছে কৃতী ছাত্রী। তবে সেই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঠিক নির্দেশনা ও সাহায্যকেও সে ভোলেনি।
পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকাও ঈশানীর অন্যতম প্রিয় শখ। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে সে জানিয়েছে, বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পড়ে ভবিষ্যতে গবেষণা করার ইচ্ছে রয়েছে তার।
নিজের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে ঈশানী বলে, “আমি আশা করেছিলাম ৯৭ শতাংশের কাছাকাছি নম্বর পাব। কিন্তু এতটা ভালো ফল (অর্থাৎ তৃতীয় স্থান) আশা করিনি।” সে তার স্কুল ও জেলার নাম উজ্জ্বল করতে পেরে খুব খুশি বলে জানিয়েছে।
আগামী পরীক্ষার্থীদের জন্য ঈশানীর পরামর্শ
আগামী বছর যারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে, তাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে ঈশানী। কৃতী ছাত্রী সকলকে পরামর্শ দিয়ে বলে, “সবাই যেন মন দিয়ে টেক্সট বই খুঁটিয়ে পড়ে। পরীক্ষার সময় যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সব প্রশ্নের উত্তর লিখে আসে। আর উত্তরের ক্ষেত্রে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই যেন স্পষ্ট করে লেখে, অপ্রাসঙ্গিক কিছু না লেখে।”
মেয়ের এই অসাধারণ সাফল্যে তার বাবা-মা খুব খুশি হয়েছেন। তাঁরাও এতটা নম্বর আশা না করলেও, তাঁদের মেয়ে যে ভালো রেজাল্ট করবে সেই বিশ্বাস তাদের ছিলই। ঈশানীর এই ফলাফল কোতুলপুর এবং বাঁকুড়া জেলার জন্য গর্বের বিষয়।