খুঁজে খুঁজে বের করা হবে কাউকে ছাড়ব না, করা বার্তা পাক সেনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে নিরীহ পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় গোটা দেশ বর্তমানে ক্ষোভে ফুঁসছে। এই নৃশংস ঘটনার পর জড়িত সন্ত্রাসবাদীদের নিকেশ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার এই বিষয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, হামলাকারীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে এবং কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

অসমে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঙ্কার:

বৃহস্পতিবার অসমে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখার সময় অমিত শাহ পহেলগাঁও হামলা প্রসঙ্গে তাঁর সরকারের কঠোর মনোভাব স্পষ্ট করে দেন। তিনি সাফ জানান, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। সন্ত্রাসবাদীরা দেশের বাইরে বা ভিতরে যেখানেই আত্মগোপন করে থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে খুঁজে বের করা হবে এবং কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। অমিত শাহ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কোনো রকম আপস করবে না এবং কাউকে রেহাই দেবে না।

হামলার ভয়াবহতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ:

গত ২২ এপ্রিল পহেলগামের বৈসরন এলাকায় জঙ্গিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছিল। পর্যটক সহ ২৬ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। জঙ্গিরা এমন একটি প্রত্যন্ত স্থান বেছে নিয়েছিল, যেখানে নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষে সহজে পৌঁছনো কঠিন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে নির্বিচারে গুলি চালানোর পর হামলাকারীরা এলাকা ছাড়ে। এই ঘটনা সামনে আসার পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছিলেন এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স নীতি:

অসমে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে অমিত শাহ বলেন, হামলা করে কেউ রেহাই পাবে না। পহেলগাঁওয়ের হামলাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে বলেন, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উপড়ে ফেলা হবে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মতোই কেন্দ্রীয় সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে।

এনআইএ তদন্তের অগ্রগতি:

এই হামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-কে। বৃহস্পতিবার এনআইএ-র ডিরেক্টর জেনারেলও পহেলগাঁওতে পৌঁছেছেন। তিনি ঘটনাস্থল এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়েছে বলে খবর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা এবং এনআইএ-এর তৎপরতা বুঝিয়ে দিচ্ছে, পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে কেন্দ্র কতটা বদ্ধপরিকর।