“৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা ‘নন স্টপ’ অপারেশন”-কাশ্মীর নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিলো মোদী সরকার

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর উপত্যকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সর্বদল বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার হামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা গাফিলতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে জম্মু-কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে আঁটসাঁট করা হচ্ছে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।
আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত অমরনাথ যাত্রা। পহেলগাঁও হামলার পর এই যাত্রা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। উপত্যকায় নতুন করে এবং বাড়তি সেনা মোতায়েনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। সেনার এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, গরমের মরশুমে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়ে, তাই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। অনুপ্রবেশ আটকানোর পাশাপাশি জঙ্গিরা যাতে কোনও এলাকায় লুকিয়ে থাকতে না পারে বা নতুন করে ঘাঁটি তৈরি করতে না পারে, তাও কঠোরভাবে নজরে রাখা হচ্ছে।
সেনা সূত্রে খবর, অস্থায়ী নিরাপত্তার ছাউনিগুলিকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যাতে সেখান থেকে সেনা অন্তত ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ‘নন স্টপ’ অপারেশন বা অভিযান চালাতে পারে। জঙ্গি হামলার পর থেকেই উপত্যকা জুড়ে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সেনা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কাশ্মীর সফরে গিয়েছেন আর্মি চিফ জেনারেল উপেন্দ্র দ্বীবেদি।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ের বর্বরোচিত হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। প্রাথমিক গোয়েন্দা রিপোর্টে এই হামলার পিছনে সরাসরি পাকিস্তানি যোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে দেওয়া এবং আত্তারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া। তবে এখানেই যে ভারত থামবে না, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। আর ভারতের এই মনোভাব আঁচ করেই পাকিস্তানও নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC)-র ওপারে তাদের সেনা মোতায়েন করতে শুরু করেছে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও উঠে এসেছে যে, শুধু সীমান্তেই নয়, দেশের মাটিতেও বেশ কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং তারা লাগাতার উস্কানি ও নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। ওই সেনা কর্তার কথায়, ‘লাগাতার অনুপ্রবেশের চেষ্টা হচ্ছে সীমান্ত দিয়ে।’ সেনা কর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা আবার উপত্যকায় ফিরে এসে বড় হামলার চেষ্টা করতে পারে, এই আশঙ্কায় নিরাপত্তা বাহিনী চূড়ান্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সেনা বাহিনীর মতে, উপত্যকায় সক্রিয় জঙ্গিদের অধিকাংশই উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, কৌশলগত অবস্থানে দক্ষ, নির্জন এলাকায় লুকিয়ে থাকে এবং গোপন ঘাঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার পরিকল্পনা করে, তারপর হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পাকিস্তান যে সীমান্তে সেনা মোতায়েন করছে তা ভারতের অজানা নয়। স্যাটেলাইট ইমেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে পাকিস্তানের প্রস্তুতির সমস্ত খবরই ভারতের হাতে আসছে। পাশাপাশি সেনার তরফে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে জোরালো ভাবে তার মোকাবিলা করা হবে।
সব মিলিয়ে পহেলগাঁও হামলার পর জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অভূতপূর্বভাবে জোরদার করা হয়েছে এবং ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উপত্যকার নিরাপত্তা এবং অমরনাথ যাত্রার সুষ্ঠু পরিচালনা প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।