বেতনের লিস্ট আসতেই শিক্ষকরা ফিরলেন স্কুলে, তালিকায় যাদের নাম নেই তারা ধর্নায়

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হওয়ায় এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মচারী। সল্টলেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) দপ্তরের সামনে চলছিল তাঁদের লাগাতার আন্দোলন। এই পরিস্থিতিতে কমিশন যোগ্য শিক্ষকদের একটি তালিকা প্রকাশ করার পর বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই তালিকা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষকরা স্কুলে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে তালিকায় নাম না থাকা যোগ্য প্রার্থীরা এখনও কর্মহীন অথবা ধর্না চালিয়ে যাচ্ছেন।

এসএসসি প্রকাশিত তালিকা জেলা শিক্ষা দপ্তরগুলির মাধ্যমে স্কুলগুলিতে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকা হাতে পেয়েই বৃহস্পতিবার বহু স্কুলের প্রধান শিক্ষক যোগ্য বিবেচিত শিক্ষকদের কাজে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। যারা এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন, তারাই কাজে ফিরতে পারছেন। অন্যদিকে, তালিকায় নাম না থাকা বা অযোগ্য বিবেচিত শিক্ষকরা আপাতত স্কুল থেকে ব্রাত্যই রয়ে গেছেন।

ভাঙড়ের পোলেরহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ সরকার জানান, তাঁদের স্কুলের প্রায় ৭০ জন শিক্ষক যোগ্য-অযোগ্য তালিকায় ছিলেন। তাদের মধ্যে দু’জন শিক্ষক অযোগ্য তালিকায় চলে গেছেন এবং চারজন শিক্ষক বৃহস্পতিবার স্কুলে কাজে যোগ দিয়েছেন। একসঙ্গে ৬ জন শিক্ষক কর্মহীন হয়ে পড়ায় প্রায় ৩৯০০ ছাত্রছাত্রীর পঠনপাঠন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন তারা। শিক্ষকদের ফিরে আসায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

কচুয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব গোস্বামী জানান, তার স্কুলের তিনজন শিক্ষকই আবার আগের মতো স্কুলে ফিরছেন, যা তাদের জন্য চিন্তামুক্তির কারণ। তবে ক্লার্ক পদে যিনি ছিলেন, তিনি এখনও ফিরতে পারেননি।

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রভাব পড়েছিল। পার্শ্বশিক্ষক এবং স্থায়ী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ৫৫ জন স্টাফের মধ্যে ৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি গিয়েছিল। এর ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর পঠনপাঠন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে বৃহস্পতিবার চাকরিহারা ৮ জনের মধ্যে ৬ জনই স্কুলে কাজে যোগ দিয়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের আশা, বাকিরাও দ্রুতই কাজে ফিরবেন।

এসএসসি থেকে শিক্ষা দপ্তর হয়ে তথাকথিত যোগ্য শিক্ষকদের বেতনের তালিকা জেলা ডিআই অফিসগুলিতে পৌঁছনোর পরেই বৃহস্পতিবার বনগাঁ থেকে অশোকনগর, বাগদা, দেগঙ্গা সহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলগুলিতে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা কাজে যোগ দিতে আসেন। বনগাঁর কুমুদিনী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাতজন চাকরিহারা শিক্ষিকার মধ্যে পাঁচজন এদিন স্কুলে এসেছেন। প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রাণী উকিল জানান, ডিআই অফিসের পাঠানো তালিকার প্রথম দিকেই তার স্কুলের সাতজন শিক্ষিকার নাম রয়েছে এবং তাদের স্কুলে ফেরায় অন্য শিক্ষিকাদের উপর চাপ কমেছে। দেগঙ্গা চৌরাশি হাইস্কুলে পাঁচজন চাকরিহারা শিক্ষক কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার আলম। তবে শিক্ষাকর্মী না ফেরায় একজন পার্টটাইম ক্লার্ক এবং একজন শিক্ষককে দিয়ে আপাতত তার কাজ সামাল দেওয়া হচ্ছে।

বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ ঋতু ভগত হাইস্কুলের ছয়জন শিক্ষক ও একজন করণিক কাজ হারিয়েছিলেন, তবে সেখানকার সব শিক্ষকই এদিন কাজে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, জয়নগর-২ ব্লকের মনিরতট রাইমণি ইনস্টিটিউশনের ছয়জন শিক্ষককে চাকরি হারাতে হলেও পরে তাদের প্রত্যেকের নাম ডিআই অফিস থেকে স্কুলে পাঠানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার তাদের কেউই কাজে যোগ দেননি।

যদিও বহু যোগ্য শিক্ষক তালিকায় নাম না থাকায় এখনও কাজে যোগ দিতে পারেননি বা আন্দোলনে রয়েছেন, তবে তালিকায় নাম থাকা যোগ্যদের স্কুলে ফেরায় পঠনপাঠনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরতে শুরু করেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।